সালমান খানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন চণ্ডীগড়ের ব্যবসায়ী অরুণ গুপ্ত। তিনি এবার তাঁর অভিযোগ নিয়ে আবারও কথা বলেছেন। অরুণের দাবি, সালমান খানের ব্র্যান্ড ‘বিইং হিউম্যান’-এর গয়নার শোরুম খোলার কাজে প্রায় তিন কোটি রুপি বিনিয়োগ করায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাঁর অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ হয়ে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পরও সালমান খান কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ তাঁর খোঁজ নেয়নি।

দৈনিক ভাস্কর পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরুণের অভিযোগ অনুযায়ী চণ্ডীগড়ের মানিমাজরায় ‘বিইং হিউম্যান’ গয়নার শোরুম খোলার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেন। ব্যবসা সফল হবে এবং সংস্থার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে—এমন আশ্বাস পেয়ে তিনি বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেন। অরুণের দাবি, মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি রুপি; এর মধ্যে শোরুম তৈরির পেছনে প্রায় এক কোটি রুপি খরচ হয়েছে।

ব্যবসায়ীর ভাষ্য, চুক্তি অনুযায়ী নিজের দায়িত্ব পালন করলেও শোরুম চালু হওয়ার পর সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত সহযোগিতা মেলেনি। ফলে ব্যবসা প্রত্যাশামতো এগোয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। অরুণের দাবি, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বিইং হিউম্যানের গয়না সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শোরুমে পণ্য সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এতে তাঁর ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অরুণের অভিযোগ, তাঁকে ব্যবসার সম্ভাবনা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়েছিল। এরপর ২০২১ সালে তিনি সালমান খান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সম্প্রতি চণ্ডীগড়ের একটি আদালত সালমান খান, তাঁর বোন আলভিরা খান অগ্নিহোত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিচালকদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৫ অক্টোবর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

অরুণ নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ও জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই ব্যবসায় বিনিয়োগের পর আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি এবং এর মধ্যে তাঁর হার্ট অ্যাটাকও হয়। তবে এত কিছুর পরও সালমান বা তাঁর সংস্থার পক্ষ থেকে কেউ তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেননি বলে অভিযোগ করেন অরুণ।

অন্যদিকে, অরুণের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তাদের বক্তব্য, ২০১৮ সালের ওই চুক্তিতে সালমান খানের সরাসরি কোনো ভূমিকা ছিল না। সংস্থার দাবি, ২০১৫ সালে সালমান খান ফাউন্ডেশন শুধু ‘বিইং হিউম্যান’ ব্র্যান্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল ‘স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড’কে। গয়নার ব্যবসা পরিচালনা, বিপণন ও বিক্রির দায়িত্ব ছিল ওই সংস্থারই।

এখন আদালতে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিকে নজর সবার। সেখানে সালমান, আলভিরা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিচালকদের বক্তব্যও সামনে আসবে।