নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে সৃষ্ট এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে আট বছর বয়সী শিশু মারুফের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং শ্বাসনালী পুড়ে গিয়েছিল।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় দগ্ধ তার বাবা মাইদুল (২৪) ও মা বিউটি (২৪) বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের শরীরের যথাক্রমে ৮৫ ও ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া চাপাতলী এলাকার একটি ভাড়া বাসায়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রান্নাঘরের তিতাস গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস বের হয়ে শোয়ার ঘরের ভেতরে জমে ছিল। শুক্রবার সকালে শিশুটির বাবা মাইদুল সিগারেট ধরাতে আগুন জ্বালালে জমে থাকা গ্যাসে মুহূর্তেই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরে থাকা বাবা, মা ও সন্তান তিনজনই দগ্ধ হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

ভর্তির সময় অধ্যাপক শাওন বিন রহমান জানান, আগুনে মারুফের শ্বাসনালীসহ শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তার বাবা মাইদুল ৮৫ শতাংশ এবং মা বিউটি ৮০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনজনের অবস্থাই গুরুতর ছিল।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, "ঘরে গ্যাসের লিকেজ থাকলে বা গন্ধ পাওয়া গেলে কোনো ধরনের আগুন না জ্বালানো এবং বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার না করে দ্রুত দরজা-জানালা খুলে নিরাপদে বেরিয়ে আসার জন্য সচেতন থাকা জরুরি।"