বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন গবেষক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ডক্টরাল ফেলো আসিফ বিন আলী। তিনি জানান, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পার হলেও জুডিশিয়ারিকে স্বাধীন করা এবং মানবাধিকার কমিশনকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি।

সম্প্রতি মুক্তকণ্ঠের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ বিন আলী বলেন, “৫ আগস্টের পর গোটা দেশে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম কারণ ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর ভেঙে পড়া এবং রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থা হারিয়ে যাওয়া।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হওয়ার পর মানুষের মধ্যে পুনরায় ভরসা ফিরে এসেছে এবং রাষ্ট্র এখন শুধু উপস্থিতই নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকাও পালন করছে।

মব জাস্টিস এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছু সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও রাষ্ট্র অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে সরকারের কিছু ইতিবাচক অর্জন থাকলেও প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থবিরতা রয়েছে বলে মনে করেন আসিফ বিন আলী। তিনি বলেন, “বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।”

একটি নতুন সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়ন করার জন্য ছয় মাস অত্যন্ত অল্প সময় বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “সরকারের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট এবং সংস্কারসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা বুঝতে অন্তত এক বছর সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।”