ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা উঠে এসেছে। প্রায় ২৯ বছর ধরে বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াতের পথটি কাঁচা থাকায় বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয়করণ করা হয়। ২০১১ সালে এখানে একটি দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮৪ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন ছয়জন শিক্ষক।
বিদ্যালয়ে প্রবেশের জন্য মাত্র একটি রাস্তা রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮২০ ফুট। এই পথটি এখনও কাঁচা হওয়ায় বর্ষায় বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তায় কাদা ও পানি জমে যায়। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় শিক্ষার্থীদের।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বিশাল দাস বলেন, "বর্ষার সময় স্কুলে আসতে খুব কষ্ট হয়। কাদা-পানির কারণে অনেক বন্ধু নিয়মিত ক্লাসে আসতে পারে না।"
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন জানান, "বৃষ্টি শুরু হলে স্কুলে আসা-যাওয়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়।"
আরেক শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী দাস বলেন, "বৃষ্টি হলে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না।"
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেমন্ত দাস বলেন, "বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসার পথে বৃষ্টিতে ভিজে যায়। কাদা-পানির কারণে বই-খাতাও নষ্ট হয়। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে এলেও পুরো বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার দাস বলেন, "বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য প্রায় ৮২০ ফুট কাঁচা রাস্তা রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় কাদা ও পানি জমে যায়। এতে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। বর্ষা এলেই সবার দুর্ভোগ বেড়ে যায়। কোমলমতি শিশুদের কথা বিবেচনা করে রাস্তাটি দ্রুত পাকা করা অত্যন্ত জরুরি।"
মেগচামী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সনৎ কুমার দাস জানান, ফুলেশ্বরী পানি উন্নয়ন সমবায় সমিতির উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে খালের পাড় দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এটিই এলাকার মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ। বিকল্প পথ না থাকায় কাদা বা বৃষ্টি—যে পরিস্থিতিই হোক, মানুষকে এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতে হয়। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে মেগচামী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সাব্বির উদ্দীন শেখ (সাব্বির) বলেন, "রাস্তাটির অবস্থা খুবই করুণ। বর্ষা মৌসুমে শিশুদের স্কুলে যেতে চরম কষ্ট হয়। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছে। দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণ করা গেলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।"
মধুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম (বীথি) জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এখনও বিদ্যালয়টি পরিদর্শনের সুযোগ হয়নি। তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে তিনি জানান।