দীর্ঘদিনের সংস্কারকাজ এবং রাস্তার খানাখন্দের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আলেখারচর থেকে সুয়াগাজী পর্যন্ত শত শত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে আলেখারচর থেকে সুয়াগাজী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। বিকেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে ওই একই এলাকায় পুনরায় যানজট সৃষ্টি হয়, যা মহাসড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমতলীর প্রায় আধা কিলোমিটার অংশে গত তিন মাস ধরে সংস্কারকাজ চলছে। রাস্তার এক পাশ বন্ধ রেখে অপর পাশ দিয়ে যানবাহন চালানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে বিকল্প লেনের বিভিন্ন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পানি জমে থাকায় যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গত দুই দিনে অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক খানাখন্দে আটকে পড়েছে। এর ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে আমতলী এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়লেই পরিস্থিতি দ্রুত অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের দাবি, সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট না করে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারকাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিকল্প লেনটি মজবুতভাবে সংস্কার করা হলে বৃষ্টির সময় যানজট ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে তারা মনে করেন।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়কের খানাখন্দ মেরামত করা না হলে সামনে আরও বড় ধরনের যানজট ও জনদুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে।"

এই বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অস্থায়ীভাবে সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে।