রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মহনগর লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭০ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মোট ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পেলেও একমাত্র এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বঞ্চিত হয়েছে।
অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম নেসার দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই শিক্ষার্থীরা এই আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, প্রধান শিক্ষক স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে পাঠদান, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতির দায়ভার প্রধান শিক্ষককেই বহন করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের উপবৃত্তির চাহিদাপত্র যথাসময়ে না পাঠানোর কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি বৃত্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ জুলাই রাজশাহী-৫ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ ১৩৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধাবৃত্তি বিতরণ করেন। ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় চারঘাট উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ৫৪ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল এবং ৭২ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজন ট্যালেন্টপুল ও চারজন সাধারণ বৃত্তি পায়। তবে মহনগর লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী ওই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ারই সুযোগ পায়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মরিয়ম নেসা বলেন, "উপবৃত্তির বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয়কে সময়মতো জানানো হয়নি। পরে জানতে পারলেও ততক্ষণে তথ্য পাঠানোর সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল।" নিজের বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগগুলোও তিনি অসত্য বলে দাবি করেন।
প্রধান শিক্ষকের এই দাবি নাকচ করে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) রুনা খাতুন বলেন, "প্রধান শিক্ষকের এমন দাবি সঠিক নয়। শিক্ষা অফিসের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সব প্রধান শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন এবং সব নির্দেশনা সেখানেই দেওয়া হয়। ৭৩টির মধ্যে ৭২টি বিদ্যালয় সময়মতো তথ্য দিতে পারলে একটি বিদ্যালয় কেন পারল না—তা তদন্তের বিষয়। প্রাথমিকভাবে প্রধান শিক্ষকের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।"
চারঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতিমা খাতুন জানান, মহনগর লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি নজরে আসার পর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা খাতুনকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।