দিনকয়েক আগে নির্মাতা রায়হান রাফীর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনায় আসে ‘আন্ধার’। ওই পোস্টেই নির্মাতা লেখেন, ‘আমি কাল থেকে অফিশিয়ালি আনঅফিশিয়াল ফার্স্ট লিক দেওয়া শুরু করছি।’ একই পোস্টে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার “আন্ধার সিনেমার প্রডিউসারদের একটা বদঅভ্যাস আছে। আমি বলি, একটা পোস্ট দিই? তারা বলে, “না।” আমি বলি, একটা ছবি দিই। তারা বলে, “না।” আমি বলি, একটু “আন্ধার” নিয়ে কথা বলি? তারা বলে, “এখনো না।”’ এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটির বিভিন্ন দৃশ্য ‘ফাঁস’ করতে থাকেন রাফী। পোস্টের নিচে ছবির অভিনয়শিল্পী ও প্রযোজকের মন্তব্যের পাশাপাশি যুক্ত হন সাধারণ দর্শকেরাও। মুক্তির সম্ভাব্য সময় নিয়ে অনেকের প্রশ্নের মুখেই এবার নির্মাতার সঙ্গে আলাপ।
গতকাল দুপুরে রায়হান রাফী মুক্তকণ্ঠকে জানান, চলতি বছরের অক্টোবরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে আনতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, পূজার ছুটি ঘিরেই মুক্তির পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। ‘কয়েক বছর ধরে ঈদে সিনেমা মুক্তি পেলে উৎসবের একটা আবহ তৈরি হয়। আমরা চাই, পূজাতেও সেই উৎসবমুখর পরিবেশটা ফিরে আসুক। পূজায় কয়েক দিন ছুটি থাকে। ছুটির এই আমেজে মানুষ প্রেক্ষাগৃহে আসুক, সিনেমা দেখুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা,’ বলেন তিনি।
পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ‘আন্ধার’ বাংলাদেশের হরর ঘরানার অন্যতম বড় বাজেটের একটি আয়োজন। ছবির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে ভিএফএক্স ও গ্রাফিকস অ্যানিমেশনের কাজ। নির্মাতা জানান, এসব কাজ কয়েক মাস ধরে মুম্বাইয়ের একটি স্টুডিওতে সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাতার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্রে হরর ঘরানার যে শূন্যতা ছিল, ‘আন্ধার’ সেটি অনেকটাই পূরণ করতে পারবে।
সিনেমাটিতে নাজিফা তুষির দুটি স্টিল ‘ফাঁস’ করা হয়েছে। একটিতে তুষি একা, অন্যটিতে তাঁর সঙ্গে আফসানা মিমি। ছবিতে তুষির চরিত্রের নাম নাদিয়া। স্টিল প্রকাশিত হওয়ার পর তুষি লিখেছেন, ‘প্রায় এক বছর ধরে চুপ ছিলাম। আর না! নাদিয়া এখন পর্যন্ত আমার অভিনীত সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র। এই চরিত্রে আমাকে নানা ধরনের আবেগের ভেতর দিয়ে যেতে দিয়েছে। ছিল কঠিন, আবার ভীষণ তৃপ্তিদায়কও। আমি যেমন কাজটি করে দারুণ সময় কাটিয়েছি, আশা করি বড় পর্দায় দর্শকদেরও ততটাই ভালো লাগবে।’ পাশাপাশি আফসানা মিমির সঙ্গে একটি স্থিরচিত্র প্রকাশ করে নাজিফা লিখেছেন, ‘মিমি আপা মানেই ম্যাজিক। তাঁর সঙ্গে বড় পর্দায় কাজ করতে পারাটা আমার সৌভাগ্য।’
মুক্তির আগে পর্যায়ক্রমে ছবিটির পোস্টার, টিজার ও ট্রেলার প্রকাশ করা হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে ‘আন্ধার’ সার্টিফিকেশন বোর্ডে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে—জানালেন রাফী। ছবিটির বেশির ভাগ শুটিং হয়েছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহে।
ছবির গল্পের পেছনেও রয়েছে ভিন্ন প্রেক্ষাপট। দেশের জনপ্রিয় দুই ব্যান্ডশিল্পী—অর্থহীনের সাইদুস সালেহীন সুমন ও ক্রিপটিক ফেইটের শাকিব চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ভৌতিক লোককাহিনি ও অতিপ্রাকৃত ঘটনা নিয়ে আগ্রহী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তাঁরা সংগ্রহ করেছেন অসংখ্য ভূতের গল্প। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁদের গল্পে নির্মিত হয়েছে ‘আন্ধার’।
শাকিব চৌধুরীর ভাষ্য, ‘বাংলাদেশে এখন ভালো সিনেমা হচ্ছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের হরর চলচ্চিত্র এখনো খুব কম। সেই ভাবনা থেকেই আন্ধার–এর পরিকল্পনা। কতটা সফল হব জানি না, তবে চেষ্টা ও আয়োজনে কোনো কমতি রাখিনি।’
আফসানা মিমি ও তুষি ছাড়া সিনেমাটিতে আরও আছেন চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ, গাজী রাকায়েত, মোস্তফা মন্ওয়ার ও তানজিকা আমিন। ছবিটির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে ফররুখ আহমেদ রেহান ও স্বর্ণালী চৈতির।