জুলাই আন্দোলনের আগে জামায়াত-শিবির কিংবা এনসিপি—কাউকেই মানুষ এভাবে চিনত না বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। তাঁর মতে, জুলাই আন্দোলন ছিল একটি ঐক্যবদ্ধ লড়াই, আর সেই সময়ে এনসিপি নামে কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব ছিল না। অথচ বর্তমানে তারা এককভাবে এই আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের মাঝে অনুদান বিতরণ কর্মসূচির সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

খায়রুল কবির খোকন বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। একটি মহল প্রচার করছে যে সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে, দায়িত্ব পালন করছে না এবং দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এনসিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও অশালীন বক্তব্য দিচ্ছে।”

আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, “তারা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন করেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছে; কিন্তু সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন করেনি। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের লক্ষ্যে এক দফা আন্দোলন আমরা করেছি।”

নরসিংদীতে জুলাই আন্দোলনের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা জানান, সেখানে ২৬ জন শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৬০০ জন আহত হয়েছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তালিকায় বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীর নাম না থাকলেও বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত আহতদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তাদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

নির্বাচন নিয়ে তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, “জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে। এটি বিনা ভোটের নির্বাচন নয়, দিনের ভোট রাতে হয়নি। তাই মাঠ গরম করার চেষ্টা করবেন না। জনগণই এর জবাব দেবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল মাস্টার এবং জেলা যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসেন বিদ্যুৎসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।