নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর ডানতীরের প্রধান বাঁধে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে নদীর ডানতীরে অবস্থিত ভেন্ডাবাড়ী এলাকার ১ নম্বর স্পার বাঁধসহ আশপাশের জনবসতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভেন্ডাবাড়ী এলাকায় এই ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় তীব্র স্রোত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা, কেল্লাপাড়া ও ভেন্ডাবাড়ী গ্রামের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছিল।

পরবর্তীতে পানির স্তর কিছুটা কমলেও গত ৫ আগস্ট হঠাৎ তিস্তা আবারও ফুলে-ফেঁপে ওঠে। ওই দিন সকালে ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ২৮ মিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিকেলের দিকে পানি কমলেও গত দুই দিনে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুক্রবার সকালে ভেন্ডাবাড়ী এলাকার ১ নম্বর স্পারসংলগ্ন প্রধান বাঁধে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “তিস্তা নদী হঠাৎ ডানতীরের দিকে সরে এসে প্রধান বাঁধে সরাসরি আঘাত করছে। শুক্রবার সকাল থেকে ভেন্ডাবাড়ী ১ নম্বর স্পার বাঁধসহ কয়েকটি স্থানে ধস শুরু হয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে ভেন্ডাবাড়ীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “গত দুই দিন তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি কমতে শুরু করায় নদীর স্রোত ভেন্ডাবাড়ী এলাকায় ডানতীরের বাঁধে আঘাত হানছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চালানো হচ্ছে।”