সমুদ্রসৈকত থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে পাহাড়ঘেরা সবুজ পরিবেশের মধ্যে ১৫ তলা চারটি ভবনে মোট ৩৩৯টি ফ্ল্যাট। ভবনগুলোর আশপাশের বেশির ভাগ জায়গা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) প্রথম আবাসন প্রকল্প ‘স্বপ্নচূড়া’ আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।

কক্সবাজারের কলাতলী সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন বাইপাস সড়কের আদর্শগ্রাম পাহাড় এলাকায় গড়ে তোলা ‘আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’ নামের এ আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধন আজ দুপুরে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে ফ্ল্যাট মালিকদের হাতে ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পর্যটন শহর কক্সবাজারকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু উঁচু ভবন বানিয়ে শহরকে কনক্রিটের ঘিঞ্জি জঙ্গল বানালে হবে না, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করেই পরিবেশবান্ধব পযটনের উন্নয়ন করতে হবে। সিঙ্গাপুরের আদলে পরিবেশবান্ধব কটেজ-রিসোর্ট, পার্ক, বিনোদনক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। তাহলে বিদেশি পযটক আনা যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কউকের এই স্বপ্নচূড়া আবাসন প্রকল্প ৩৩৯টি পরিবারকে সুন্দর পরিবেশে থাকার সুযোগ করে দিল। আবাসনের সংকট দূর করতে পরিবেশবান্ধব আরও প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। কক্সবাজারকে ঢেলে সাজাতে সহসা মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শেষ করা হবে।

এদিকে প্রকল্পের ফ্ল্যাট হস্তান্তর উপলক্ষে আজ বেলা ১১টায় কউক ভবনের সম্মেলনকক্ষে আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, শামীম আরা, আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান প্রমুখ।

যা আছে ‘স্বপ্নচূড়ায়’

প্রকল্পের ১৫ তলা ভবনের ছাদ বা ব্যালকনিতে দাঁড়ালে পশ্চিম দিকে সমুদ্রসৈকত দেখা যায়। চারপাশে সবুজ পাহাড়, আর সাগরের শব্দও শোনা যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। গত কয়েক দিন ধরে এমন পরিবেশ উপভোগ করছেন প্রকল্পের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। আজ থেকে শতাধিক পরিবার যুক্ত হয়েছে বলে বলা হয়।

প্রকল্পের একজন ফ্ল্যাট মালিক শাহেদুল ইসলাম বলেন, এত দিন তাঁরা শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় থাকতেন। প্রধান সড়কে নিয়মিত যানজট, ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাতায়াতে সমস্যা ও ছোট বাসায় গাদাগাদি করে থাকার কষ্ট ছিল। এখন সুন্দর পরিবেশে থাকার সুযোগ হয়েছে। হাতের কাছেই সমুদ্রসৈকত, ইচ্ছা করলেই ঘুরে আসা যাবে।

আরেক ফ্ল্যাট মালিক কনক শর্মা বলেন, শহরের অতিরিক্ত ভাড়ার বাসা ও নোংরা পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে এত দিন চলতে হয়েছে। কউকের সাশ্রয়ী মূল্যের এই ফ্ল্যাট তাঁদের দীর্ঘদিনের নিরাপদ আবাসনের স্বপ্ন পূরণ করেছে। এখন ছেলেমেয়েদের নিয়ে পরিপাটি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে পারবেন।

কউক সূত্রে জানা গেছে, ‘স্বপ্নচূড়া’ প্রকল্পে প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৮৯৫ টাকা। বর্তমান বাজারদরের তুলনায় এটি সাশ্রয়ী বলে জানানো হয়েছে। ৩৩৯টি ফ্ল্যাটের এই প্রকল্পে ৬০ শতাংশের বেশি জায়গা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

প্রকল্পে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য গার্বেজ শুট (পাইপের মাধ্যমে বর্জ্য ফেলা), অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা, প্রশস্ত রিসেপশন ও চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়েছে। প্রতিটি টাওয়ারে একাধিক সিঁড়ির পাশাপাশি জরুরি নির্গমনের ব্যবস্থা রয়েছে। অধিকাংশ ফ্ল্যাট দক্ষিণ-পূর্বমুখী। আবাসন প্রকল্প থেকে সমুদ্রসৈকতে হেঁটে যেতে সময় লাগে প্রায় ১০ মিনিট।

কউক কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ২০২৬ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কউক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে এ ধরনের আরও আবাসন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।