সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে ২৬ জনের কাছ থেকে ৭৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের লামাশ্রম গ্রামের মো. ইয়াহিয়া এবং তার বাবা ফুল বক্স মিয়া।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে বাদাঘাট ইউনিয়নের বিন্নাকুলী গ্রামের বাসিন্দা খুরশিদ মিয়া সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রায় তিন মাস আগে ইয়াহিয়া ও তার বাবা ফুল বক্স বিন্নাকুলী গ্রামে গিয়ে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এই প্রলোভনে পড়ে ২৬ জন ব্যক্তি জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে মোট ৭৮ হাজার টাকা তাদের প্রদান করেন। তবে পরবর্তীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, ফ্যামিলি কার্ডে নাম তোলার জন্য কোনো ফি বা টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই।

অভিযোগে আরও জানানো হয়, গত ১ আগস্ট সকালে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন হুমকি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী খুরশিদ মিয়া বলেন, “আমরা গরিব ও অশিক্ষিত মানুষ। আমার স্ত্রীসহ ২৬ জনের কাছ থেকে সরকারি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে বাপ-বেটা মিলে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে নিয়েছে। এখন টাকা ফেরত চাইলে উল্টো তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

অন্যদিকে, বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপি নেতা চাঁন মিয়া এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে গরিব মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়াহিয়ার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার বাবা ফুল বক্স মিয়া টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, “টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এলাকার একটি পক্ষ হয়তো আমার ছেলেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাহিরপুর থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ জানান, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম দেওয়ার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।