সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি বাসের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে জনপ্রিয় বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবীসহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাতটার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি রাস্তার পাশের একটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন—সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), ঢাকার বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে খোজাইফা (৪), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে একটি বাউল গানের অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন পেহেলী ভৈরবী।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, "সকাল সাড়ে সাতটার দিকে দয়ামীর বাজারসংলগ্ন কাশিকাপন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় দুই বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।"
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, হাসপাতালে মোট ১৬ জনকে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, "হাসপাতালে একটি শিশুকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়। মোট ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য চারজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।"
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের অবস্থা খতিয়ে দেখেন। তিনি বলেন, "আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"