ওজন কমানোর কথা উঠলেই সাধারণত সবার প্রথম পরামর্শ থাকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার। শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। তবে কেবল পানি নয়, ডায়েটে কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয় যুক্ত করলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট পানীয় এককভাবে ওজন কমিয়ে দিতে পারে না। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি কিছু বিশেষ পানীয় ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
গ্রিন টি: গ্রিন টি-তে ক্যাফেইনের পাশাপাশি ক্যাটেচিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এটি শরীরের চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়া এবং বিপাকক্রিয়া সামান্য বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তবে এর প্রভাব সীমিত এবং চিনি ছাড়া পান করাই শ্রেয়।
ব্ল্যাক কফি: চিনি, ক্রিম বা ফ্লেভার সিরাপ ছাড়া ব্ল্যাক কফিতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। এতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরচর্চার সময় কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হয়। তবে অতিরিক্ত কফি পানে অনিদ্রা, অস্থিরতা বা হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সবজির জুস: টমেটো, শসা বা সেলারির মতো সবজি দিয়ে তৈরি ঘরোয়া জুস পুষ্টিকর ও কম ক্যালোরিযুক্ত হয়। তবে এতে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা উচিত নয়। পুষ্টিবিদদের মতে, জুসের চেয়ে সরাসরি সবজি খাওয়া বেশি উপকারী, কারণ এতে খাদ্যআঁশ অক্ষুণ্ন থাকে।
প্রোটিন শেক: যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ পানীয় কার্যকর হতে পারে। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং পেশি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে। তবে বাজারের প্রোটিন শেক কেনার আগে লেবেল দেখে নেওয়া জরুরি, কারণ অনেকটিতে অতিরিক্ত চিনি থাকে।
গ্রিন স্মুদি: পালং শাক, শসা, সামান্য ফল এবং দই বা দুধ দিয়ে তৈরি গ্রিন স্মুদি বেশ পুষ্টিকর। তবে এতে মধু, চিনি বা উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত উপাদান যোগ করলে এর উপকারিতা কমে যেতে পারে।
কম চর্বিযুক্ত দুধ: লো-ফ্যাট বা স্কিমড দুধে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকে। পরিমিত পরিমাণে এটি খাদ্যতালিকায় রাখলে দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
চিনি ছাড়া হারবাল টি: আদা, পুদিনা বা ক্যামোমাইল দিয়ে তৈরি হারবাল টি কম ক্যালোরিযুক্ত। এটি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং মিষ্টি পানীয় খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়।
যেসব পানীয় বর্জন করবেন: ওজন কমাতে চাইলে কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ফলের জুস, মিল্কশেক, সিরাপযুক্ত কফি এবং মিষ্টি চা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এসব পানীয়ের অল্প পরিমাণেই প্রচুর ক্যালোরি ও চিনি থাকে।
জীবনযাপনের গুরুত্ব: বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনো পানীয়ই ওজন কমানোর জাদুকরী উপায় নয়। দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য। পানির পাশাপাশি গ্রিন টি, ব্ল্যাক কফি বা প্রোটিন পানীয় কেবল স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
সূত্র: হেল্থ