‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যের আলোকে ভোলায় আয়োজিত সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শেষ হয়েছে। মেলার সমাপনী দিনে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমারোহ থাকলেও দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে ২৫ বছর বয়সী একটি বনসাই গাছ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসন ও উপকূলীয় বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান।

উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক বেলালের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহান সরকারসহ অন্যান্যরা।

মেলায় মোট সাতটি স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা প্রদর্শিত ও বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন গাছপ্রেমী, ছাদবাগান অনুরাগী এবং সাধারণ মানুষের ভিড়ে মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় অংশ নেওয়া ভোলার সুপরিচিত আওসান নার্সারির কর্ণধার জানান, দীর্ঘ ২৫ বছরের পরিচর্যায় গড়ে তোলা বনসাই গাছটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে এক ক্রেতা এক লাখ টাকা পর্যন্ত দাম প্রস্তাব করলেও দেড় লাখ টাকার কম মূল্যে গাছটি বিক্রি করা হবে না বলে তিনি জানান।

বনসাইটি সম্পর্কে তিনি বলেন, "দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষ পরিচর্যা, ছাঁটাই ও নান্দনিক আকার দেওয়ার মাধ্যমে বনসাইটি তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের বনসাই শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; এটি ধৈর্য, শিল্প ও পরিচর্যার এক অনন্য উদাহরণ।"

আয়োজকদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই ছিল এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। সাত দিনের এই আয়োজনে গাছের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন তারা।

সমাপনী দিনে অনেক দর্শনার্থী ওই ২৫ বছর বয়সী বনসাই গাছটির সঙ্গে ছবি তোলেন এবং এর পরিচর্যা ও মূল্য সম্পর্কে জানতে চান। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।