ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির তোড়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার প্রধান পাকা সড়কটি ধসে গেছে। এর ফলে ওই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নিলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মালামালবাহী ট্রাক তিন বিঘা করিডোরে আটকে দেওয়ায় সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, মুমূর্ষু রোগী ও বিজিবি সদস্যসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে ভারতের উজান থেকে তীব্র বেগে পাহাড়ি ঢল বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পানির প্রচণ্ড স্রোতে প্রথমে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি প্লাবিত হয় এবং পরবর্তীতে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার ‘সিস্টায়ার বাজার’ এলাকার পাকা সড়কটি ধসে গিয়ে বিশাল খাদের সৃষ্টি হয়।
এই সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সিস্টায়ার বাজারসংলগ্ন এলাকার অন্তত দুই হাজার পরিবারের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের স্বাভাবিক টহল কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া পানির তোড়ে সদ্য রোপিত আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করতে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ উদ্যোগ গ্রহণ করে। তবে মেরামতের জন্য বালুসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে আসা একটি ট্রাক তিন বিঘা করিডোরে পৌঁছালে বিএসএফ সদস্যরা তা দহগ্রামে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। বর্তমানে ট্রাকটি বিজিবি চেকপোস্টের সামনে অবস্থান করছে।
যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারী ও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যেতে চাওয়া রোগীরা। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারতীয় ঢলের পানিতে দেশের রাস্তা ও ফসলি জমি ধসে গেল, অথচ সেই রাস্তা মেরামতের মালামাল আনতেও বিএসএফ বাধা দিচ্ছে—এ যেন এক দ্বিমুখী নির্যাতন। তারা দ্রুত কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ওসমান গনি বলেন, "জনভোগান্তি কমাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত সাময়িক চলাচলের উপযোগী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালামালবাহী ট্রাকটি তিন বিঘা করিডোরে পৌঁছালে বিএসএফ সদস্যরা সেটি আটকে দেয় এবং দহগ্রামে প্রবেশ করতে দেয়নি। বিএসএফের বাধার মুখে মেরামতের মালামাল গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।"