কক্সবাজারের মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। একই সঙ্গে চট্টগ্রামেও পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ বাড়তে শুরু করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে আগের কয়েক দিনের মতো যানবাহনের দীর্ঘ সারি চোখে পড়েনি। বেশির ভাগ চালক স্বাভাবিক সময়ের মধ্যেই গ্যাস নিতে পেরেছেন।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) মো. রফিকুল ইসলাম আজ দুপুরে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে মেরামত শেষে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে এই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে। মহেশখালীর অপর ভাসমান টার্মিনাল থেকেও আরও ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস আসছে—এতে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রফিক খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘গতকাল আমরা ১৮ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পেয়েছিলাম। আজ আরও বেশি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। পাইপলাইনে চাপও বেড়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’

কয়েক দিন ধরে চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস–সংকটের পরিস্থিতি চলছিল। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং বাসাবাড়িতে দুর্ভোগ বেড়ে যায়।

অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলা জ্বলেনি। ফিলিং স্টেশনগুলোয় চালকদের ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। অনেকেই অপেক্ষমাণ গাড়িতেই রাত কাটান।

তবে আজ সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের সিটি গেটের মীর সিএনজি ফিলিং স্টেশন, আকবরশাহর পাহাড়িকা ফিলিং স্টেশন ও ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনে আগের দিনের তুলনায় ভিড় অনেক কম। কোথাও যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছিল না এবং চালকেরাও তুলনামূলক কম সময় অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে পেরেছেন।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট। তবে গত কয়েক দিনে সরবরাহ নেমে আসে ১৯ থেকে ২০ কোটি ঘনফুটে। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে সরবরাহ চালাতে হচ্ছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হওয়ায় আপাতত সংকট অনেকটাই কমবে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে গ্যাস সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হবে।