জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ—তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা বলেছেন। তিনি একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার আহ্বান জানান। বুধবার সকালে বরিশাল নগরের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক, মানবাধিকারভিত্তিক ও সাম্যের বাংলাদেশ। তবে বিভিন্ন সময়ে স্বৈরশাসন ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি জানান, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ আবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ পেয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘২০১০ সালে ফ্যাসিবাদী হাসিনাকে উৎখাত করার জন্য যখন আন্দোলন শুরু করেছিলাম, তখন আবু সাঈদ ছিল শিশু। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামের আবহাওয়ায় একটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ত্যাগী, ন্যায্য, সাহসী যুবকে রূপান্তরিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ অসংখ্য শহীদদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ আমরা কায়েম করেছি।’
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যাঁরা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে পার্লামেন্টের বদলে রাজপথে নেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন, তাঁরা শহীদদের আত্মত্যাগকে বুঝতে পারছেন না। যাঁরা আজ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক তর্কবিতর্কের বদলে সামাজিক মাধ্যমে নৈরাজ্য ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন, তাঁরা ভুল করছেন।’ তিনি বলেন, ‘যে ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদকে হটিয়েছি, যে ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এই প্রতিনিধিত্বমূলক জাতীয় সংসদ পেয়েছি, আসুন, সেই জাতীয় সংসদকেই রাজনীতির একমাত্র কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত করি। এর ব্যত্যয় জনগণ মেনে নেবে না। এই কাজ যদি আমরা করতে পারি, তাহলেই শহীদদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া শহীদদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার অন্য কোনো পথ আমাদের সামনে খোলা নেই।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার শান্তিপূর্ণভাবে সব সমস্যার সমাধান চায়। তবে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা বাধা সৃষ্টি হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করা হবে। শহীদদের রক্তের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রয়োজনীয় সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তথ্যমন্ত্রী। এ সময় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুরে নগরের বান্দ রোডে শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী। সভায় তিনি বলেন, ‘একটি মহল গণভোটকে বিভ্রান্তিকরভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। আমি বিনীতভাবে গণতন্ত্রের পক্ষের সব শক্তিকে আহ্বান জানাচ্ছি, জনগণ ভোট দিয়ে যে পার্লামেন্ট তৈরি করেছে, সংবিধান অনুযায়ী সেই পার্লামেন্টই হচ্ছে সর্বোত্তম সিদ্ধান্তের জায়গা। জনগণের সব ক্ষমতা এই পার্লামেন্টের মাধ্যমেই চর্চা হবে।’
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নতুন সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে একটি দুর্বল, দেউলিয়া অর্থনীতি ও নানা সংকটের উত্তরাধিকার পেয়েছে। একটা বিধ্বস্ত সমাজ পেয়েছি। উত্তরাধিকার সূত্রে ফ্যাসিবাদের সব জঞ্জাল এখন আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। আমরা গর্বিত, জনগণ এই জঞ্জাল সরানোর দায়িত্বের জন্য আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আমরা গর্বিত, এই বিধ্বস্ত ও পঙ্গু অর্থনীতিকে দাঁড় করানোর জন্য তারেক রহমানকে তাঁরা সঠিক নেতা মনে করেছেন। আমরা বিনীতভাবে সেই শপথ উচ্চারণ করতে চাই, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব আমরা অবশ্যই পালন করব। আর এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো বাধাকেই আমরা প্রশ্রয় দেব না।’