ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো অনুশোচনা নেই। এত অন্যায়, অবিচার, খুন, গুম, অর্থ পাচার, নির্যাতন ও আয়নাঘরের পরও তাদের কোনো লজ্জাবোধ নেই। আওয়ামী লীগ নেতাদের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা অপেক্ষা করে আছি, আসেন দেশে। দেশে আসেন, ইনশাআল্লাহ রাজপথে দেখা হবে।”
বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
নিজের জীবনসংগ্রামের কথা স্মরণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, “২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি লড়াই করব। বাংলাদেশে জনগণের শাসন ও গণতন্ত্র চিরস্থায়ী করে যাব আমরা। এই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছি, ১৯৭১ সালে যুদ্ধে আহত হয়েছিলাম—এই ধরনের বাংলাদেশ দেখার জন্য তো নয়।”
অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের প্রকৃতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এখানে দুজন মন্ত্রী এবং নিচে জুনায়েদ সাকি চমৎকার বক্তব্য দিয়েছেন। এই সরকার আপনাদের নির্বাচিত সরকার। আমরা ভুল করলে আমাদের শুধরে দেবেন। আমরা তো আর আওয়ামী লীগ হতে পারব না, হতেও চাই না।”
জুলাই বিপ্লবের সাহসিকতার কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “ইনশাআল্লাহ, জুলাইয়ের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে, যাদের নাগরিকেরা উদ্যত সঙ্গিনের সামনে দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়াতে পারে না। কোন জাতি এত সাহসী? আমরা সেই জাতি, তাদেরকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি।”
জুলাইয়ের যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যারা এখানে এসেছেন, মন খারাপ করবেন না। ৭১ সালে যারা জীবন দিয়ে গেছেন, তারাও হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পাননি। আপনারাও হয়তো কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি সব সময় পাবেন না, তবে এই সরকারের কাছে সম্মান আপনারা নিশ্চয়ই পাবেন।”
শহিদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “আমাদের গরিব দেশের যতটুকু সাধ্য আছে, সবকিছু উজাড় করে দেবো আপনাদের কল্যাণের জন্য। জুলাইয়ে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, সেই সব পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং যারা আহত হয়েছেন, চোখের দৃষ্টি ও অঙ্গ হারিয়েছেন—তাদের সুস্থ করে তোলা এই সরকারের সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে সেই পবিত্র দায়িত্ব পালন করব।”