সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৪০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে জানানো হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরে ৮৩ মিলিমিটার, তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড়ে ২৮ মিলিমিটার, ছাতকে ৪৭ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৪০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে এই তথ্যের বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. সজীব হোসাইন। তিনি বলেন, "পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মোতাবেক দিরাইয়ে যে বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে তা সচাচর হয় না। কয়েক বছর আগে সিলেট অঞ্চলে এমন বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল।"

তিনি আরও জানান, "বর্ষাকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সিলেটে আরও দুই-তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। যেহেতু বর্ষকাল চলছে তাই সুনামগঞ্জ অঞ্চলে কম বেশি বৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক বিষয়।"

পাউবোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বৃষ্টিপাতের ফলে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার, জাদুকাটা নদীর পানি তাহিরপুরের লাউড়েরগড়ে ১.১৫ মিটার এবং দিরাইয়ে কালনী নদীর পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টানা বৃষ্টির ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগের কথা জানা গেছে। দিরাই বাজার এলাকার বই ব্যবসায়ী মো. রুকনুজ্জামান জহুরী বলেন, "টানা বৃষ্টির কারণে মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। ঘর-বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। হাট-বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। রাস্তা-ঘাটে বৃষ্টির পানি জমে গেছে। কয়েক বছরের মধ্যে এমন বৃষ্টি হয়নি।"

একই কথা echoed করেছেন দিরাই পৌর শহরের বাগবাড়ি-উলুকান্দী এলাকার বাসিন্দা মাহবুব আহমদ। তিনি বলেন, "দুই দিন ধরে যে পরিমান বৃষ্টি হয়েছে দিরাইয়ে এমন বৃষ্টি কয়েক বছরেও হয়নি। বৃষ্টির পানিতে নালা ও ডোবা ভরাট হয়ে রাস্তা-ঘাটে পানি উঠেছে। অনেকের দোকান-পাটের ভেতরে পানি ঢুকেছে।"

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক জানান, গত দুই দিন ধরে সুনামগঞ্জে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি বলেন, "দিরাইয়ে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আরও কয়েক দিন বৃষ্টি হতে পারে।"