টানা কয়েকদিনের সরকারি ও ব্যক্তিগত ছুটির সুযোগে কর্মনগরী ঢাকা ছেড়ে উত্তরবঙ্গের দিকে ছুটছেন অসংখ্য মানুষ। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যাপক যাত্রীর চাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের গতি অত্যন্ত ধীর হয়ে পড়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সরকারি ছুটি ছিল। এর পাশাপাশি অনেকে বৃহস্পতিবার ছুটি নেওয়ায় শুক্রবার মিলিয়ে তিন দিনের ছুটি পেয়েছেন। আবার অনেক সরকারি চাকরিজীবী বৃহস্পতিবার ছুটি নেওয়ার ফলে চার দিনের দীর্ঘ ছুটি পেয়েছেন। এই ছুটির সুযোগে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার হিড়িক পড়ায় মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই এই চাপ বাড়তে শুরু করে এবং রাতে চন্দ্রা এলাকায় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে চন্দ্রা এলাকার বাস কাউন্টারগুলো বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরও অনেকে বাস পাচ্ছেন না বলে জানান তারা।
যাত্রী কাউসার বলেন, "চার দিন ছুটি পেয়েছি, ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। চন্দ্রায় এসে দেখি ঈদের সময়ের মতো মানুষের ঢল। স্বাভাবিক সময়ের থেকে ভাড়া বেশি নিচ্ছে, গাড়িও পাওয়া যাচ্ছে না। দুরপাল্লার গণপরিবহন নির্দিষ্ট ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে।"
অন্যদিকে, পোশাক শ্রমিক মিতালি বলেন, "আজ আমাদের কারখানায় সরকারি ছুটি। বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়েছি, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। তিন দিন ছুটি পাওয়ায় বাড়িতে যাচ্ছি। ঈদের সময় বাড়িতে গেলে যেমন আনন্দ লাগে, তেমন আনন্দ পাচ্ছি।"
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান জানান, "অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে ওই বাস কাউন্টার ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তবে তিনি আরও জানান, বর্তমানে মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।