স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কোটি মানুষের স্বপ্ন ও শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করেই এই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথা বলেছেন তিনি।

বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। বাণীতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন ও পচে যাওয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়েছে তারা। তিনি বলেন, “প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় আমরা সংগ্রাম করেছি শেখ হাসিনার ভয়াবহ স্বৈরাচার ও পচে যাওয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে। এই সংগ্রামে লাখ লাখ পরিবার ধ্বংস হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত করে মানুষের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হলেও আমরা হাল ছাড়িনি। আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।”

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “জুলাইয়ে হাজার হাজার মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে ও গণতন্ত্রের পক্ষে রাজপথে নেমে আসে। সেই আন্দোলন দমন করতে শত শত তরুণকে হত্যা করা হয়; এমনকি বাড়ির বারান্দা বা ছাদে থাকা শিশুরাও রেহাই পায়নি। শেখ হাসিনার নির্দেশে তার বাহিনী হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালায়।” তিনি আরও জানান, ছাত্র-জনতার অদম্য অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন এবং শুরু হয় নতুন বাংলাদেশের পথচলা। পরবর্তীতে জাতিসংঘের তদন্ত ও দেশের ট্রাইব্যুনালে হাসিনা সরকারের অপরাধের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে রায় কার্যকর হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ ও জনগণের আস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের ভোটে সরকার গঠন করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, হামের প্রাদুর্ভাব ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মতো কঠিন পরিস্থিতি এলেও তারা থেমে থাকেনি।

নিজের আদর্শ ও বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে বাণীতে তিনি বলেন, “আমি বহুবার আমার বিশ্বাসের কথা বলেছি। আমার আদর্শের কথা বলেছি। বলেছি আমার পূর্বপুরুষদের, আমার নেতা-নেত্রীদের, আমার কমরেডদের এবং আমাদের সন্তানদের আত্মত্যাগের কথা। সেই আত্মত্যাগ ছিল একটি স্বপ্নের জন্য—লিবারেল ডেমোক্রেটিক আদর্শে একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, উন্নত, সুখী, সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। আজও আমি সেই স্বপ্ন দেখি। ৭৮ বছর বয়সেও আমার বিশ্বাস অটুট—বাংলাদেশ পারবে।”

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস ’৭১। আমার আস্থা ’২৪-এর তারুণ্যে। আমার আদর্শ জিয়াউর রহমান। স্বস্তি লিবারেল ডেমোক্রেসি, আর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে। আমার আস্থা বিএনপিতে। কারণ ইতিহাস সাক্ষী, বারবার ভয়াবহ সংকটের পর আমরাই এই জাতিকে আলোর পথে ফিরিয়ে এনেছি।”

পরিশেষে তিনি বলেন, শহীদের আত্মত্যাগ, কোটি মানুষের স্বপ্ন, মেধা ও পরিশ্রমকে শক্তি বানিয়ে এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে যেখানে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানুষের মর্যাদা থাকবে। তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—এই মাটিতে আর কোনো স্বৈরাচার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। এটাই ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সবচেয়ে বড় শক্তি। এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”