ফরিদপুরের সদরপুরে সড়কে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর পর পুলিশ হেফাজতে থাকা হাতিটিকে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফরিদপুরের এক আদালত সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হাতিটি মালিকের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। তবে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় সড়কে হাতি দিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছিল। সেই সময় চাঁদা দেওয়া এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সি আরিশা জান্নাত নামের এক শিশু গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা হাতির মাহুতকে আটক করে মারধর করেন এবং পরে হাতিসহ তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পুলিশ মাহুতকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। একই সঙ্গে হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে নাকি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়।

শুনানি শেষে আদালত হাতিটিকে তার মালিকের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন। হাতিটির মালিক নওগাঁ জেলার ব্যবসায়ী দুলাল দেওয়ান। তিনি নিজে সার্কাস পরিচালনা না করলেও বিভিন্ন সার্কাস দলের কাছে হাতিটি ভাড়া দিয়ে থাকেন।

গত এক সপ্তাহ ধরে সদরপুর থানা প্রাঙ্গণে বিশেষ তত্ত্বাবধানে ছিল হাতিটি। মালিকের পক্ষ থেকে পাঠানো ১৭ বছর বয়সি মাহুত নাজমুল সরদার হাতিটির দেখাশোনা করছেন। তিনি নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাবার দেওয়া এবং হাঁটানোর দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে বিশাল আকৃতির এই প্রাণীর খাবারের ব্যবস্থা করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। প্রতিদিন কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন খাবার সংগ্রহ করতে হতো। স্থানীয়দের ও হাতির মালিকের সহায়তায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এদিকে থানায় অবস্থানকালে হাতিটিকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ হাতিটি দেখতে এসে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থান নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, "আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাতিটিকে দ্রুতই মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।"