বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাবেক সেনাসদস্য ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মোসলেম উদ্দিন প্রামাণিককে (৬২) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের চর পাকুড়িয়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মোসলেম উদ্দিন কাজলা ইউনিয়নের পাটুয়ার চর গ্রামের আব্দুল মান্নান প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সেনাসদস্য ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আটককৃতরা হলেন—জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চর শুভগাছা এলাকার মৃত আসাদুজ্জামান খানের ছেলে হায়দার আলী খান (৭০) ও গিয়াস আলী খান (৭৫), সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়নের চর পাকুড়িয়া এলাকার মৃত দুদু সরকারের ছেলে মিন্টু সরকার (৫৬), মোখলেছুর রহমানের ছেলে সুজন মণ্ডল (৩২), মৃত ময়েজ মণ্ডলের ছেলে মোখলেছুর রহমান (৫৫) এবং ইলিয়াস সরকারের ছেলে সোহেল সরকার (৩৫)।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার নান্টু সরকারের সঙ্গে মোসলেম উদ্দিনের জমিজমা ও গোচারণভূমি বিক্রি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। অভিযোগ উঠেছে, সোমবার রাত আটটার দিকে পাকুড়িয়া বাজার থেকে চা খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে নান্টু সরকারের নেতৃত্বে একদল লোক তার পথরোধ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। লোহার রডের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাত একটার দিকে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাই ও কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান আলী বলেন, "গোচারণভূমি বিক্রি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই তার ভাইকে একা পেয়ে হামলা চালানো হয়েছে।" তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি জানিয়েছেন।

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, "ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর পাশাপাশি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"