বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইনে শাস্তির যে বিধান রাখা হয়েছে, তার সাংবিধানিকতা নিয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এক সম্পূরক আবেদনের শুনানির পর এই রুল দেন।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ৫ ধারায় নতুন একটি ধারা ৯খ সন্নিবেশিত করা হয়। এই ৯খ ধারায় বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করলে দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। উক্ত ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ৭ এপ্রিল ‘এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশন’ সংগঠনের পক্ষে রিট করা হলে ৪ মে হাইকোর্ট প্রাথমিক রুল দেন।

রিট আবেদনকারী পক্ষ আদালতকে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধনী আনা হলেও ওই বিধানটি বহাল রাখা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সংশোধিত আইনের ৫ ধারার মাধ্যমে সন্নিবেশিত ৯খ ধারার বৈধতা নিয়ে সম্পূরক আবেদন করা হলে শুনানি শেষে বর্তমান রুলটি দেওয়া হয়।

আইনটির সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দৈহিক বল প্রয়োগ ছাড়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে যৌনকর্ম করেন এবং ঘটনার সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারীর আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তবে ওই ব্যক্তি অনধিক সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান এবং রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার।

শুনানির পর আইনজীবী ইশরাত হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আইনের ৫ ধারার মাধ্যমে সন্নিবেশিত ৯খ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই রুলের জবাব দিতে হবে।

আবেদনের যুক্তির বিষয়ে ইশরাত হাসান বলেন, “প্রতিশ্রুতি দুজন ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। একজন নারীও যদি সম্পর্ক করে বলে যে বিয়ে করবেন না, তাঁর বিরুদ্ধে কিছু করার নেই। যখন ঘটনা ঘটছে, তখন তা অপরাধ নয়, পরবর্তী সময়ে প্রতিশ্রুতি না রাখলে সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়েছে বিধানটিতে। এমন অনুমান বা ধারণার ভিত্তিতে অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। এখানে শুধু পুরুষকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রতিশ্রুতি তো দুজনই দিতে পারেন, আবার না–ও রাখতে পারেন। বিধানটিতে ‘বিবাহিত’ বা ‘অবিবাহিত’ আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগে বিবাহিত নারীকেও মামলা করতে দেখা যায়। এমনকি এ প্রতিশ্রুতির মাপকাঠি কী, তা–ও স্পষ্ট উল্লেখ নেই। বিধানটি অস্পষ্ট, বৈষম্যমূলক এবং মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

আইনজীবীর মতে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার কারণে কেবল লিঙ্গের ভিত্তিতে একজনকে অপরাধী এবং অপরজনকে অপরাধী হিসেবে গণ্য না করার সুযোগ নেই।