ফরিদপুরে অব্যবস্থাপনা ও অনুমতিবিহীন (লাইসেন্সবিহীন) কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।
সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান ও নাজমুন নাহার নাঈম।
অভিযানে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হলিসিটি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা রোগীদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা অন্য উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর আয়েশা আফরিণ (১৭) নামে এক কলেজছাত্রী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ সরেজমিনে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে হাসপাতালটির বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এর মধ্যে অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) অব্যবস্থাপনা, অস্ত্রোপচার রোগীদের সিটে মনিটর না থাকা, ৩০ সিটের হাসপাতালের বিধি অনুযায়ী পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকাসহ নানা অনিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হাসপাতালটির অস্ত্রোপচার ও হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আতিকুল আহসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান সিভিল সার্জন। তিনি ওই হাসপাতালে আয়েশা আফরিণের অস্ত্রোপচার করেছিলেন।
এ ছাড়া একই এলাকার অন্য চারটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। লাইসেন্সবিহীনভাবে পরিচালনার অভিযোগ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অভিযান শেষে সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম পরিচালিত হবে সরকারি নির্দেশনা মেতাবেক আমরা সেগুলো বন্ধ করে দেব। প্রতিটি মানুষ যাতে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের। সেই লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
আল-জারা হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘তিনি একজন অভিজ্ঞ সার্জন এবং সহকারী অধ্যাপক। এই হাসপাতালে এসে অস্ত্রোপচার করা তাঁর ঠিক হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব এবং শোকজ করা হবে।’