চুল ও ত্বকের যত্নে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে এক্সোসোম থেরাপি। স্টেম সেল থেকে প্রাপ্ত ন্যানো পার্টিকেলের মাধ্যমে এই পদ্ধতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই চুল পড়া রোধ এবং ত্বকের বয়সের ছাপ দূর করতে এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে।
চুলের চিকিৎসায় এই থেরাপির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এক্সোসোমের ভেতরে থাকা প্রোটিন ও গ্রোথ ফ্যাক্টর সরাসরি মাথার ত্বকের হেয়ার ফলিকলে পৌঁছে নিষ্ক্রিয় বা মৃতপ্রায় ফলিকলগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে প্রাকৃতিকভাবে নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়, চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং অতিরিক্ত চুল পড়া হ্রাস পায়।
অন্যদিকে, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে এবং পুনরুজ্জীবিত করতে এক্সোসোম থেরাপি বেশ কার্যকর। এই পদ্ধতিতে ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া সূর্যের আলোয় ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক মেরামত, ব্রণের দাগ দূর করা এবং স্কিন টোন উন্নত করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে এটি সহায়ক।
অস্ত্রোপচারবিহীন বা নন-সার্জিক্যাল পদ্ধতি হওয়ায় এই চিকিৎসাটি নিরাপদ। সাধারণত মাইক্রো-নিডলিং অথবা সূক্ষ্ম ইনজেকশনের মাধ্যমে ত্বকে বা স্কাল্পে এক্সোসোম প্রবেশ করানো হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন এস্থেটিক সেন্টার ও ডার্মাটোলজি ক্লিনিকে এই থেরাপি প্রদান করা হচ্ছে। তবে যেকোনো উন্নত চিকিৎসার মতো এর সঠিক ফলাফল নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে অভিজ্ঞ ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তথ্যসূত্র: ডা. জাহেদ পারভেজ, সহকারী অধ্যাপক, ত্বক-চর্ম-যৌন ও হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।