নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নয়াপুরের একটি আবাসিক এলাকায় মশার কয়েলের কারখানা স্থাপনের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী। আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রস্তাবিত কারখানাটিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র না দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শাহনাজ মুন্নী বলেন, "তিন দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি অন্যের বহু সংবাদ সম্মেলন কাভার করেছেন। কিন্তু আজ পরিবেশগত ঝুঁকির আশঙ্কায় নিজেকেই সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে।"

তিনি আরও জানান, সোনারগাঁয়ের নয়াপুরের এলাকাটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। সেখানে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং মন্দিরের পাশাপাশি আবাসিক ঘরবাড়ি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মশার কয়েল কারখানাটি চালু হলে বিষাক্ত দূষণের কারণে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শাহনাজ মুন্নীর দাবি, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর ইতিপূর্বে একাধিকবার তদন্ত চালিয়েছে এবং প্রতিবারই এলাকাটিকে আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী সেখানে মশার কয়েল কারখানা স্থাপন করা সম্ভব নয় বলে মত দেওয়া হয়। এর ফলে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রস্তাবিত কারখানাটির অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করে। পরবর্তীতে আপিলের মাধ্যমে একবার ছাড়পত্র পাওয়া গেলেও পরবর্তী তদন্তে তা পুনরায় বাতিল করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে আবারও আপিলের মাধ্যমে ছাড়পত্র পাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং আগামী ৬ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। একই এলাকায় আগে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি পোলট্রি ফার্ম বন্ধ করা হয়েছিল, যার বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রস্তাবিত কারখানাটিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র না দেওয়ার পাশাপাশি শাহনাজ মুন্নী বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ সংশোধন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার দাবি জানান। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ড বাতিল করে পরিবেশ আদালতে আপিলের ব্যবস্থা চালু করার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কারখানাটিকে ছাড়পত্র না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে নয়াপুর গ্রামের মসজিদের পক্ষে মো. মাইনুদ্দিন মোল্লা, মন্দিরের পক্ষে সাধন সাহা এবং এলাকাবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে কবি ও পরিবেশবিদ শাহেদ কায়েস উপস্থিত ছিলেন।