খুলনার কয়রা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। উপজেলার মোট ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৫৯টিতে প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। বাকি ৮৩টি বিদ্যালয়ই বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের ২১টি পদ শূন্য থাকায় পাঠদান ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত করে জানা গেছে, যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, সেখানে সহকারী শিক্ষকরাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাদের একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চাপ সামলাতে হচ্ছে। মূলত দীর্ঘ সময় পদোন্নতি না হওয়া, শিক্ষকদের অবসর গ্রহণ এবং মৃত্যুজনিত কারণে এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, সদ্য জাতীয়করণ হওয়া ১৯টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের পদের দাবিতে মামলা করায় ওই বিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে কাউকে নিয়োগ বা পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কয়রার ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৩টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। অন্যদিকে, উপজেলায় অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের ৭৩২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭১১ জন, যার ফলে ২১টি পদ শূন্য রয়েছে। এই দ্বিমুখী শিক্ষক সংকটের কারণে স্বাভাবিক শ্রেণিক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ছে।
উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের বতুলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহীদ হাসান বলেন, "আমার বিদ্যালয়ে অনুমোদিত চারজন শিক্ষকের একজন প্রাক্কলনে (ডেপুটেশন) আছেন। বর্তমানে আমরা তিনজন শিক্ষক দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ সামলাচ্ছি, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। শিক্ষক সংকটের কারণে স্কুল চালানোই দায় হয়ে পড়েছে, আর পাঠদান তো ব্যাহত হচ্ছেই।"
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার জানান, শূন্য পদে পদোন্নতির জন্য যোগ্য শিক্ষকদের তালিকা জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।"