নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ওই বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি আমেনা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অনিক রহমান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল কবীর। আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।
অভিযোগ উঠেছে, ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে সহোদর কোটায় দুই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, তাদের একজনের বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান এবং অন্যজনের কোনো ভাই-বোন ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সহোদর অধ্যয়নের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন। ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে অভিভাবকরা উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত তাদের সহোদর কোটায় ভর্তির নির্দেশনা দেন। গণমাধ্যমে এই জালিয়াতির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হয় এবং তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কমিটির আহ্বায়ক সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের বলেন, "দ্রুত তদন্ত শেষ করে যথা সময়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।"
ইউএনও আমেনা খাতুন জানান, সহকারী কমিশনার ছুটিতে থাকায় তদন্ত কাজ শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তিনি বলেন, "সহকারী কমিশনার ছুটিতে থাকায় তদন্ত কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। ছুটি শেষ হয়েছে, এখন কাজ শুরু করবে। সহোদর কোটাসহ ভর্তি সংক্রান্ত সবগুলো বিষয় তদন্ত করা হবে। পরে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।"