বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ ও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে উভয় দেশ। নানামুখী তৎপরতার মাধ্যমে এই সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সোমবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস–বিস) মিলনায়তনে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিস এবং চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ‘কম্পারেটিভ গভার্ন্যান্স ফোরাম ২০২৬’ শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।
বক্তব্যের এক অংশে হুমায়ুন কবির বলেন, "চীনের সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সরবরাহব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।"
তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। চীনের উন্নত প্রযুক্তির সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বেইজিং সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "এ সফরের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।"
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক করিডর এবং তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীন আশাবাদী। আগামী ৫০ বছরের সম্পর্কের ভিত্তি আরও মজবুত করতে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা অঞ্চল ও পথের উদ্যোগের (বিআরআই) আওতায় শিল্প, অবকাঠামো ও উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা, নদী উন্নয়ন এবং চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবির।
অনুষ্ঠানে ফুদান ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট চেন ঝিমিন বক্তব্য প্রদান করেন। বিসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমানের সভাপতিত্বে এই উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।