পিত্তথলি বা গলব্লাডারে পাথর হলে সাধারণত পেটের ওপরের ডান পাশে ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা জন্ডিসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে পিত্তথলিতে পাথর থাকলেই যে সবসময় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে, তা নয়। যদি পাথর কোনো লক্ষণ প্রকাশ না করে কিংবা জটিলতার সৃষ্টি না করে, তবে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার অপরিহার্য হয়ে পড়ে। যেমন—পেটে বা বুকের ডান পাঁজরের নিচে প্রচণ্ড ব্যথা হলে এবং সেই ব্যথা পেটের পেছনের দিকে বা ডান কাঁধের দিকে ছড়িয়ে পড়লে, যা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এছাড়া পাথর পিত্তনালিতে আটকে গিয়ে চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে কিংবা প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে জন্ডিস দেখা দিলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। পিত্তথলিতে সংক্রমণ বা কলেসিস্টাইটিস হয়ে জ্বর ও কাঁপুনি থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়।

পাথরের আকার ও প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পিত্তথলির দেয়াল অতিরিক্ত মোটা হয়ে গেলে, পাথরের আকার ২ সেন্টিমিটার বা তার বেশি হলে, ছোট ছোট পাথরের সংখ্যা অনেক হলে অথবা পিত্তথলি অকার্যকর হয়ে গেলে অস্ত্রোপচার করা হয়। এছাড়া ডায়াবেটিসের রোগী, পিত্তথলিতে ১ সেন্টিমিটার বা তার চেয়ে বড় পলিপ থাকা অথবা রক্তে সিকল সেল রোগের মতো জটিলতা থাকলে পাথর উপসর্গহীন হলেও অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বর্তমানে বড় কাটাছেঁড়া ছাড়াই ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে পিত্তথলির পাথর অপসারণ করা সম্ভব। এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং এর মাধ্যমে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।

পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে কি না তা বুঝতে এবং সঠিক চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে দুটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন: প্রথমত, পেটে বা পিঠে তীব্র ব্যথা হচ্ছে কি না এবং হলে তা কতক্ষণ থাকে; দ্বিতীয়ত, জন্ডিস, বমি ভাব বা জ্বর আছে কি না এবং সর্বশেষ আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে পাথরের আকার ও সংখ্যা কত।

মার্কস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, মিরপুর ১৪, ঢাকার সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এম এ করিম সতর্ক করে জানিয়েছেন, পেটে তীব্র ব্যথা ৫ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে জরুরিভাবে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।