দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের অবদান বৃদ্ধি করে একে একটি টেকসই চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করতে কাজ করছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এই কথা জানিয়েছেন।
রোববার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে পর্যটন খাতের তথ্যের ঘাটতি দূর করতে দেশব্যাপী ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় টোয়াবসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আফরোজা খানম আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এই পরিকল্পনাটি পর্যটন খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটন হাবে পরিণত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এবং পর্যটনশিল্পের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টোয়াবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন নেতৃত্ব দেশের পর্যটনশিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেল ও মোটেলগুলোতে তাঁদের জন্য বিশেষ মূল্যছাড় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব ও নির্বাহী চেয়ারম্যান নাজনীন কাউছার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, বাংলাদেশে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কাইংলেট, শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপালা ওয়েরাক্কোডি, ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন হাজি ওসমান, নেপাল ও পাকিস্তান দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ টোয়াবের নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।