বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিনয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সরকারে আসার কথা বলে কাউকে যেন দাপট দেখানো না হয় বা কারও কাছ থেকে জোর করে কিছু নেওয়া না হয়।

রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর সিদ্দিকীয়া বিশ্ব ইসলাম মিশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, "সরকারে আসছেন বলে কাউকে গরম দেখাবেন, কারও কাছ থেকে জোর করে কিছু নেবেন এটা যেন না হয়। দাম্ভিকতা আল্লাহ পছন্দ করেন না, সীমালংঘনও পছন্দ করেন না। আমরা যেন সবাই মানুষের কাজের জন্য এগিয়ে যাই, আমরা যেন বিনয়ী হই। মানুষের বিপদে সাহায্য করি।"

ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, "একটি দল ধর্মের নামে রাজনীতি করে। এই যে ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা এটা বোধ হয় ঠিক না। এতে করে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। ধর্ম একটা খুব সেনসিটিভ জিনিস মানুষের। বুকের কাছের জিনিস। ওটার নাম বললে আমরা দুর্বল হয়ে যাই। কিন্তু সবসময় কি ঠিক কাজ করে ওই দলটা।"

রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এখানে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। আমরা মানুষের কল্যাণ করতে চাই। একদিকে অবকাঠামো করতে চাই, অন্যদিকে আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আল্লাহ যতদিন সুস্থ রাখবেন, ততদিন আপনাদের সঙ্গে থেকেই কাজ করতে চাই।"

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "মানুষ যা চায় আল্লাহ তাকে কিন্তু সেটা দেয়, তাই মন থেকে চান। আমরা যদি সবাই চাই ঠাকুরগাঁওকে দারিদ্র্যমুক্ত করব, উন্নয়ন করব, কর্মসংস্থান গড়ে তুলব তাহলেই সম্ভব। আমার বিশ্বাস আল্লাহতায়ালার কাছে যদি প্রাণ খুলে চাওয়া যায় আল্লাহতায়ালা সেটা কবুল করেন।"

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "আমরা ১৫ বছর লড়াই করলাম। ১৫টা বছর আমার গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। এখানে অনেক ভাই রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে অসংখ্য। কোর্টে হাজিরা দিতে দিতে জীবন শেষ হয়ে গেছে। জেলেও গেছে অনেকেই। আল্লাহ তো সুদিন ফিরিয়ে দিয়েছে।"

স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "কদিন আগে ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে মিটিং করলাম, এই ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে, ডাক্তার নাই, ঢোকা যাচ্ছে না দুর্গন্ধে। এটা কিন্তু এখন ঠিকঠাক করা হচ্ছে। আরও ভালো হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা আরও চিকিৎসক নিয়ে আসব, প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করব। একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের চেষ্টা করব, যাতে কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য রংপুরে যেতে না হয়।"

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, "সামনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন, যারা চেয়ারম্যান-মেম্বার হতে চান, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেন। যাতে মানুষ বলে হ্যাঁ এই মানুষটাকে আমরা চেয়ারম্যান বানাবো। এ তো ভালো লোক। কাজ করে আমাদের জন্য। সকলের কাছে যাবেন, ভালো কাজ করবেন। মানুষকে ভালোবাসবেন তাহলে মানুষ আপনাকে ভালোবাসবে।"

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আজ ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, দয়া করে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। রাজনীতি সবাই করবে। ধর্মের নাম নিয়ে কেন? আপনারা আপনাদের রাজনীতি করেন, আমরা আমাদের রাজনীতি করব। ধর্ম বললেই তো মানুষ দুর্বল হয়ে যায় সনাতনী ধর্মের লোকেরা। হিন্দু ভাইবোনেরা এবার কিন্তু আমাদেরকে অনেক ভোট দিয়েছে, বহু ভোট দিয়েছে। এটা মাথার মধ্যে রাখবেন। তাদেরকেও ভালোবাসবেন তাদের জন্য কাজ করবেন।"

উক্ত সভায় বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।