নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পুব হলহলিয়া গ্রামে এক আকস্মিক বিপর্যয়ে তছনছ হয়ে গেছে একটি পরিবারসহ গোটা গ্রামের সুখ-শান্তি। হরিডারা নদীর তীব্র স্রোত এবং স্লুইসগেটটি হঠাৎ ধসে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় হালিমা বেগমের বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ। এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি পরিবারের মধ্যে ভিটেমাটি হারানোর চরম আতঙ্ক ও ভোগান্তি বিরাজ করছে।

নিজের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্নের বাড়িটি চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন হালিমা বেগম। তিনি আর্তনাদ করে বলেন, ‘আমি চিৎকার করে গেট খোলার আকুতি জানিয়েছিলাম, কেউ শোনেনি। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়িটা ভেঙে চলে গেল। অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাই, এখন আমি কোথায় দাঁড়াব?’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রোববার (২ আগস্ট) দুপুর নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। ওই স্লুইসগেটটি দিয়ে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। সকাল থেকেই গেটটি ধীরে ধীরে নিচে বসে যেতে থাকে এবং এক পর্যায়ে পানি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানির চাপ বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে সেতুর পাশে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করলে সেখানে দ্রুত ভাঙন সৃষ্টি হয়, যার ফলে পাশের বসতবাড়িটি নদীগর্ভে চলে যায়।

এলাকার বাসিন্দা মোছা. রহিমা বেগম জানান, এই স্লুইসগেটটি দিয়ে এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক— দুই মৌসুমেই কৃষকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। স্থানীয় কৃষক মো. আহিনুর ইসলাম বলেন, এই স্লুইসগেটের সামনে শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। স্লুইসগেট না থাকলে পানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না, ফলে জমি অনাবাদি হয়ে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে, ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম মুক্তকণ্ঠকে জানান, প্রাথমিক পরিদর্শনে ধারণা করা হচ্ছে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণে ভাঙনের সূচনা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।