গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি ১১ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত নেন।
মামলাটির ইতিহাস 살펴보 দেখা যায়, ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও অন্যান্য আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের ওই রায়ে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং আরও সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া বিচার চলাকালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি কারাগারে মৃত্যুবরণ করায় তাঁদের বিষয়টি নিষ্পত্তি বলে গণ্য করা হয়।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল ইসলাম সরকারসহ দণ্ডিত ব্যক্তিরা আপিল ও লিভ টু আপিল করেন। অন্যদিকে, খালাসপ্রাপ্তদের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করে। গত ২৮ জুলাই এই আপিলের শুনানি শুরু হলে আদালত তা ২ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ পুনরায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালতে আসামিপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, হেলাল উদ্দিন মোল্লা, সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং আইনজীবী শফিউল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ওবায়দুর রহমান।
শুনানি প্রসঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পেপারবুক থেকে তথ্য উপস্থাপন করছেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "শুনানি নিয়ে আদালত ১১ আগস্ট পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন। সেদিন শুনানি হবে।"
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গুলি করে হত্যা করা হয় শিক্ষক ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে গাজীপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে ১৯৯০ সালে তিনি গাজীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) জাতীয় পরিষদের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।