গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের সরকারি ওষুধ না দেওয়ার অভিযোগে এক চিকিৎসককে আর্থিক জরিমানা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে সরকারি ওষুধ সাধারণ রোগীদের না দেওয়ার অপরাধে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী ও মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমান নামে দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।
এই বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আমরা জানতাম না মন্ত্রী পরিদর্শনে আসবেন। আমি বগুড়া আদালতে সাক্ষী দিতে গিয়েছিলাম। মন্ত্রীর আসার খবরে হাজিরা করেই এসেছি।"
তিনি আরও জানান, যাওয়ার পথে মন্ত্রী অভিযুক্ত চিকিৎসককে অভিযোগকারী রোগীর ভ্যাকসিনের ১ হাজার ৩০ টাকা পরিশোধের আর্থিক দণ্ডের কথা বলেছেন। এই অর্থ পরিশোধ করলে তাকে বহিষ্কার হতে হবে না বলে মন্ত্রী মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।
এরপর বিকেল ৩টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাইবান্ধা জেলা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে তিনি হাসপাতালের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং সেবার মান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ সরবরাহ ও চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি খোঁজখবর নেন তিনি।
মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "গত দীর্ঘ সতেরো বছরে স্বাস্থ্য খাতকে অবহেলা করা হয়েছে। আমাদের সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাড়ে ৫ মাস হয়েছে। তবুও আমরা চেষ্টা করছি ডাক্তারদের নিয়মানুবর্তিতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি বন্ধ করার।"
তিনি আরও বলেন, "হাসপাতালটিতে নানা অব্যবস্থাপনা রয়েছে। সবকিছু নোট করে নিয়েছি। ঢাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকা হাসপাতালের ৯ তলা বিশিষ্ট ভবনটির কার্যক্রম শুরু প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সেখানে জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও জনবল নিয়োগ দিয়ে ভবনটির পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল করিম সরকার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ ময়নুল হাসান সাদিক, জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, সিভিল সার্জন রফিকুজ্জামান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল নবী টিটুলসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।