পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহে সংকটের মধ্যেই সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ টাকা ৮৫ পয়সা। এর ফলে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকায়।

আজ রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এই দাম ঘোষণা করেছে, যা আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রভাবে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধি পায়। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে দেশের ইতিহাসে এলপিজির সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধি ঘটেছিল। এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা এবং ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়ানো হয়। তবে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস দাম কমানো হয়েছিল। গত জুলাই মাসে ৩৫৭ টাকা কমে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম হয়েছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।

বিইআরসি জানিয়েছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। আগে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ছিল ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা এখন বাড়িয়ে ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা করা হয়েছে। এই নতুন দরের ভিত্তিতেই বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।

প্রতি মাসেই সংস্থাটি এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও অভিযোগ রয়েছে যে, বাজারে নির্ধারিত দামে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে না। বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে অনেক মানুষ রান্নার জন্য এলপিজি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।

তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটো গ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বিইআরসি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে। এলপিজি তৈরির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো প্রতি মাসে এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে, যা সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপি-কে ভিত্তিমূল্য ধরে এবং আমদানিকারক কোম্পানির চালানের গড় ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে থাকে।