বাংলাদেশে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে এবং দেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, এই সম্ভাবনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম হয়েছে। এই লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা একটা ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। দেশে নতুন একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্ভাবনাটা হলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করা। গণতন্ত্র যদি চলে, তবে বাকি কাজগুলো হয়ে যায়।’

আজ রোববার বেলা দুইটার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. ইউসূফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শেখ ফরিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এবং আইনজীবী আব্দুল হালিম।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যদি প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ তৈরি করতে পারি, তাহলে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবেন। প্রশাসনকে যদি দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে রাষ্ট্র উপকৃত হবে। সংসদের কমিটিগুলোকে যদি সক্রিয় করতে পারি, কার্যকর করতে পারি; তবে গণতন্ত্র অনেক দূর এগিয়ে যাবে। দেশে সমস্যা তো অনেক। এই সমস্যা থাকবে, বিরোধিতা থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, আন্দোলন হবে—তার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি শক্তিশালী করতে পারি, তাহলে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে পারব।’

প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘পাশের দেশ ভারতের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাদের অনেক প্রবলেম; সমস্যার শেষ নেই। তারপরেও ফাইনালি তাদের গণতন্ত্র টিকে যায়। টিকে যায় এই কারণে, তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে গেছে। তাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন, প্রশাসন দক্ষ, মিডিয়া শক্তিশালী।’

আইনজীবী ও বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা বিষয় সব সময় ধরে রাখার চেষ্টা করবেন আর সেটা হচ্ছে—রুল অব ল অ্যান্ড জাস্টিস, ইনসাফ। এই দুটোকে যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে সমাজকে অনেকটা এগিয়ে নিতে পারব। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বেশ কিছু সময় ধরে আমরা এই জায়গাগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তবে আগামী দিনগুলোতে আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, দ্রুত এই জেলাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি পূরণ, মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং শহরের চারপাশ দিয়ে রিং রোড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহরের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে রামদাঁড়া খাল খনন ও সেগুনবাগান সাজানোর কাজ চলছে। শিল্পায়নের অভাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে কলকারখানা নাই। এখানে শিল্পায়ন গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।’

অনুষ্ঠানের শেষে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মাদক একটা বড় সমস্যা। আমাদের ছেলেরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’