বলিউডের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রথম ছবিই একজন অভিনয়শিল্পীর ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। কেউ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ সময় রাজত্ব করেন, আবার কারও ক্ষেত্রে অভিষেক ছবির সাফল্যই হয়ে ওঠে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখর। প্রথম ছবিতেই ব্লকবাস্টার হিট, রাতারাতি তারকাখ্যাতি এবং কোটি ভক্ত পেলেও অনেক অভিনেত্রী কয়েক বছর পর বড় পর্দা থেকে হারিয়ে যান।
এই পতনের কারণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কেউ বিয়ের পর স্বেচ্ছায় অভিনয় ছেড়ে দিয়েছেন, কেউ ভুল সিনেমা নির্বাচনের খেসারত দিয়েছেন, আবার কারও ক্যারিয়ার থমকে গেছে দুর্ঘটনায়। কেউ কেউ পারিবারিক জীবন কিংবা দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে তাঁদের প্রথম ছবির আবেদন আজও বলিউডপ্রেমীদের মনে অম্লান। এমন সাত অভিনেত্রীর জীবনকাহিনি নিচে তুলে ধরা হলো।
ভাগ্যশ্রী
১৯৮৯ সালে ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ মুক্তির পর ভাগ্যশ্রী রাতারাতি ভারতের সবচেয়ে আলোচিত নায়িকায় পরিণত হন। নতুন মুখ হয়েও সালমান খানের সঙ্গে তাঁর রসায়ন দর্শকদের মন জয় করে। ছবিটি সে সময়ের অন্যতম বড় ব্লকবাস্টার ছিল এবং ভাগ্যশ্রী সেরা নবাগত অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পান। তবে সাফল্যের পরপরই তিনি ব্যবসায়ী হিমালয় দাসানিকে বিয়ে করেন এবং খুব সীমিতসংখ্যক ছবিতে অভিনয় করেন। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা সময়েই তিনি আড়ালে চলে যান। আজও অনেকের কাছে তিনি ‘সুমন’ হিসেবেই পরিচিত।
অনু আগরওয়াল
১৯৯০ সালে ‘আশিকি’ সিনেমাটি কেবল একটি চলচ্চিত্র ছিল না, বরং তা ছিল একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা। ছবির গান, প্রেমের গল্প এবং নতুন মুখ মিলিয়ে এটি ইতিহাস গড়ে, যার কেন্দ্রে ছিলেন অনু আগরওয়াল। প্রথম ছবিতেই তিনি তারকা হয়ে ওঠেন। তবে পরবর্তী ছবিগুলো তেমন সফল হয়নি। এরপর ১৯৯৯ সালে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর জীবন বদলে দেয়। দীর্ঘ সময় কোমায় থাকার পর তাঁর অভিনয়জীবন কার্যত শেষ হয়ে যায়। একসময়ের এই সুপারস্টার পরবর্তীতে লেখালেখি ও যোগব্যায়ামের দিকে মনোনিবেশ করেন।
গ্রেসি সিং
২০০১ সালে অস্কার মনোনীত সিনেমা ‘লগান’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক করেন গ্রেসি সিং। ছবির সাফল্যের সাথে সাথে তিনি আলোচনায় আসেন এবং পরবর্তীতে ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ ছবিতেও প্রশংসিত হন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে গ্রেসি বলিউডে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি। বড় ব্যানারের ছবির সুযোগ কমে যাওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে টেলিভিশন এবং আঞ্চলিক সিনেমার দিকে ঝুঁকে পড়েন।
ভূমিকা চাওলা
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ভূমিকা চাওলা সালমান খানের বিপরীতে ‘তেরে নাম’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় অভিষেক করেন। বক্স অফিসে ছবির বড় সাফল্যের পাশাপাশি নির্জরা চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কাটে। তবে বলিউডে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি তিনি। দক্ষিণের বিভিন্ন ভাষার ছবিতে নিয়মিত কাজ করলেও হিন্দি সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি ক্রমেই কমে যায়।
গায়ত্রী জোশি
অনেক অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে একটি স্মরণীয় ছবি থাকে, গায়ত্রী জোশির ক্ষেত্রে সেটিই ছিল তাঁর প্রথম ও শেষ। ২০০৪ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘স্বদেশ’ ছবির মাধ্যমে অভিষেক হয় তাঁর। মুক্তির সময় বাণিজ্যিকভাবে খুব বড় সাফল্য না পেলেও পরবর্তীতে এটি বলিউডের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্রের মর্যাদা পায় এবং গায়ত্রীর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তবে এরপর তিনি আর কোনো সিনেমায় অভিনয় করেননি। শিল্পপতি বিক্রম ওবেরয়কে বিয়ে করে তিনি পুরোপুরি ব্যক্তিগত জীবন বেছে নেন। ফলে ‘স্বদেশ’-ই হয়ে থাকে তাঁর একমাত্র সিনেমা।
স্নেহা উল্লাল
‘লাকি: নো টাইম ফর লাভ’ ছবিতে সালমান খানের বিপরীতে অভিষেকের সময় স্নেহা উল্লাল আলোচনায় আসেন মূলত ঐশ্বরিয়া রায়ের সঙ্গে চেহারার মিলের কারণে। প্রথম ছবি তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি দিলেও পরবর্তীতে তিনি শক্তিশালী চিত্রনাট্যের কাজ পাননি। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেননি। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় কিছু কাজ করলেও বলিউডে তিনি আর প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি।
প্রীতি ঝাংগিয়ানি
২০০০ সালে ‘মহব্বতে’ ছবির মাধ্যমে প্রীতি ঝাংগিয়ানির পরিচিতি তৈরি হয়, যা ছিল বছরের অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। তবে এত বড় ব্যানারের ছবিতে অভিনয় করার পরও তিনি একক নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। কয়েকটি ছবির পর বলিউডে তাঁর উপস্থিতি কমে যায়।