চট্টগ্রাম শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, তীব্র যানজট, জলাবদ্ধতা এবং অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত ২৫ বছর মেয়াদি ‘চট্টগ্রাম মেট্রেপলিটন মাস্টারপ্ল্যান’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সাধারণ নাগরিকদের মতামত, আপত্তি ও প্রস্তাব গ্রহণের জন্য আগামী রোববার (২ আগস্ট) থেকে ৬০ দিনব্যাপী উন্মুক্ত গণশুনানি ও মতবিনিময় কার্যক্রম শুরু করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
শনিবার সিডিএর হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০১৫ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত মেয়াদি এই মাস্টারপ্ল্যানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকা এবং এর সংলগ্ন উপজেলার নগরায়নশীল অংশসহ মোট ১ হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ সরকার ও জিওবি অনুদানে মোট ৮৭ কোটি ৫৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে এর ভৌত অগ্রগতি ৮৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৯.৩৭ শতাংশ।
শহরের ওপর চাপ কমাতে খসড়া প্রতিবেদনে বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত বলেন, "শহর সম্প্রসারণে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ধারণার ভিত্তিতে পতেঙ্গা, আনোয়ারা, বাকলিয়া ও চরাঞ্চলের জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে নতুন সড়ক নির্মাণ, বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণ, আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা এবং নতুন খাল পুনঃখনন করার পরিকল্পনা আছে সিডিএর। এ ছাড়াও পাহাড় ও জলাশয় সংরক্ষণে আলাদা গুরুত্ব প্রদান।"
প্রকল্পের খসড়ার ওপর মতামত প্রদানের জন্য ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিডিএর চতুর্থ তলার চউক হল রুমে সরাসরি উপস্থিত হয়ে খসড়া প্রতিবেদন ও মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া যারা দূরে অবস্থান করছেন, তারা সিডিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.cda.gov.bd) এবং Web GIS-এর মাধ্যমে তাদের মতামত জানাতে পারবেন।
সিডিএ কর্তৃপক্ষের মতে, একটি বাস্তবমুখী পরিকল্পনা কেবল বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তৈরি করা সম্ভব নয়। স্থানীয় বাসিন্দারাই তাদের এলাকার জলাবদ্ধতা, যানজট, খেলার মাঠ বা স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়, বরং জনগণের যৌক্তিক মতামত ও সংশোধনীগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।