ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার সংকুচিত হবে এমন ভাবার কোনো অবকাশ নেই বলে দাবি করেছেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ। তিনি মনে করেন, ইসলাম এমন একটি রাষ্ট্র ও জীবনব্যবস্থা, যেখানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম পালনের পূর্ণ নিশ্চয়তা এবং অধিকার সংরক্ষণের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা বিদ্যমান।

সম্প্রতি মুক্তকণ্ঠের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিনি এসব কথা বলেন।

মুনতাছির আহমাদ বলেন, "রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং খোলাফায়ে রাশেদার ৩০ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাস এ বিষয়ে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা হয় এবং তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।"

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তারা তাদের ধর্মীয় আলোচনা, দাওয়াত, অনুষ্ঠান ও অন্যান্য আচারাদি পালনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবেন। ইসলাম কারও ওপর কিছু চাপিয়ে দেয় না, বরং সবার অধিকারের নিশ্চয়তা দেয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মুনতাছির আহমাদ বলেন, "মানুষের মধ্যে এমন একটি ধারণা রয়েছে যে ইসলামী রাষ্ট্র হলে কথা বলার অধিকার সংকুচিত হবে। তবে ইসলামে মতপ্রকাশের সুযোগ অবারিত।"

উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, খলিফা হজরত ওমর (রা.)-কে একজন সাধারণ মানুষ পোশাকের হিসাব চেয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এবং খলিফা তার জবাব দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তার মতে, ইসলামের ইতিহাসই জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকারের বাস্তব উদাহরণ বহন করে।