সামান্য বৃষ্টিতেই লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ফেরিঘাটে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহনচালকেরা। ফেরিঘাট সংলগ্ন বালুমহাল থেকে সড়কে ছড়িয়ে পড়া বালু বৃষ্টির পানিতে কাদায় পরিণত হওয়ায় ফেরিতে যানবাহন ওঠানামায় বিঘ্ন ঘটছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেরিঘাটের প্রবেশমুখে বালু ও কাদার স্তূপের কারণে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফেরিতে ওঠার সময় অনেক যাত্রী পা পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকেরা নিজস্ব উদ্যোগে নিচু স্থানে মাটি ফেলে চলাচলের ব্যবস্থা করছেন।
চট্টগ্রাম থেকে ভোলাগামী যাত্রী তাছলিমা আক্তার বলেন, "ফেরিতে উঠতে গিয়ে কাদায় পা পিছলে পড়ে পায়ে আঘাত পেয়েছি। সঙ্গে থাকা মালামালও কাদায় নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্টের শেষ নেই।"
স্থানীয় চা-দোকানি স্বপন ও তারেক জানান, বৃষ্টির সময় পুরো ফেরিঘাট এলাকা কাদায় একাকার হয়ে যায়। এতে যাত্রীদের চলাচলের পাশাপাশি তাদের ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঘাটে অপেক্ষমাণ ট্রাকচালক মিরাজ মিয়া ও সবুজ বলেন, "বালুবাহী গাড়ি থেকে সড়কে বালু পড়ে থাকায় বৃষ্টি হলেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। এতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।"
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ফেরিতে উঠতে না পেরে তারা চরম ভোগান্তির কথা জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় অপরিকল্পিত বালু ব্যবসার কারণেই এই সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বালু ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, "আমরা সরকারি অনুমতি নিয়েই বালু ব্যবসা পরিচালনা করছি। নিয়ম মেনেই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এখানে আমার মতো আরও বালু ব্যবসায়ী রয়েছেন।"
লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান জানান, সড়কের পাশে এভাবে বালু সংরক্ষণ ও ব্যবসা পরিচালনার ফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি তাদের নজরে থাকলেও ঘাট এলাকা জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় তারা সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।
এদিকে, এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়ক সংস্কার, বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং ফেরিঘাট এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না হলে এই নৌপথে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।