সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় মধ্যনগর বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন শতবর্ষী সরকারি পুকুরটি দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার ও খনন না হওয়ায় এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কয়েক দফা ময়লা ফেলার কারণে পুকুরটির কিছু অংশ ভরাট হয়ে গেছে বলেও দেখা গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র চন্দ্র তালুকদার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘পুকুরটিতে ময়লা–আবর্জনা ফেলায় দুর্গন্ধে ছাত্রছাত্রীরা চরম অস্বস্তিবোধ করে। দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন সময়ে স্প্রেও করিয়েছি। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাতে ময়লা–আবর্জনা না ফেলতে পারে সে জন্য দুই মাস আগে জাল দিয়ে বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধ্যনগর এলাকাটি একসময় গৌরীপুরের জমিদার বীরেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর অধীন ছিল। ১৯১৫ সালের কাছাকাছি সময়ে এলাকাবাসীর পানযোগ্য পানি ও অন্যান্য চাহিদা মেটাতে পুকুরটি খনন করা হয়। শুরুতে এটির আয়তন ছিল ১ একর ৯৬ শতক। কিছু স্থান ভরাট হওয়ায় ও সরকারি স্থাপনা নির্মাণ করায় বর্তমানে এটির আয়তন ৮৯ শতকে নেমে এসেছে।
খবনের পর মধ্যনগর বাজার উন্নয়ন কমিটির পক্ষ থেকে দুই-তিনবার পুকুরটির সংস্কার করা হয়। তবে ৩৫–৪০ বছর ধরে পুকুরটি সংরক্ষণে কারও নজর নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। পুকুরের আশপাশের বেশির ভাগ জায়গা স্থানীয় লোকজন বসতবাড়ি ও শৌচাগার নির্মাণ করে অবৈধ দখলে নিয়েছিলেন। ছয় বছর আগে ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসন অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করলেও তিন–চার বছর যেতে না যেতেই পুকুরের কিছু অংশ আবারও দখল হয়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার। তিনি বলেন, পুকুরটির ৮৯ শতক স্থানের মধ্যে ৪০ শতাংশই অবৈধ দখলে চলে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছে।
সরেজমিন গত বুধবার বিকেলে দেখা যায়, পুকুরটি উত্তর ও পশ্চিম পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। চারদিকে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সংস্কার না করায় পুকুরটিতে কচুগাছ ও আগাছা দেখা গেছে; কিছু স্থানে কাদাযুক্ত পানিও রয়েছে।
উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক চিত্তরঞ্জন তালুকদার (৭০) বলেন, ‘শতবর্ষী পুকুরটি ঘিরে আমাদের অনেক স্মৃতি। ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসন ছয় বছর আগে এই পুকুর থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করলেও দেখভাল না করায় এটি আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। এটিকে দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’ দ্রুত পুকুরটি খনন ও সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশার ইউএনও জনি রায় মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় কয়েক দিন ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। শতবর্ষী এই পুকুর থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং পুকুরটি সংস্কার ও খননের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’