বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে রাজবাড়ী রেলস্টেশন। এর ফলে একদিকে যেমন যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করে টিকিট ইস্যুসহ প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজবাড়ী রেলস্টেশনে এই পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। ওই সময় ১ নম্বর লাইনে ঢাকা থেকে আসা বেনাপোল এক্সপ্রেস এবং ২ নম্বর লাইনে খুলনা থেকে আসা ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস অবস্থান করছিল। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পুরো স্টেশন অন্ধকারে নিমজ্জিত হলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে এখানে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প সরবরাহের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে লোডশেডিং হলেই স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আইপিএস সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
ঢাকা থেকে আসা এক যাত্রী বলেন, "গভীর রাতে পুরো স্টেশন অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।"
খুলনা থেকে আসা আরেক যাত্রী জানান, "বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জরুরি আলোরও কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অন্ধকারে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন।"
এ বিষয়ে রাজবাড়ী রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আব্দুর রহমান বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। আইপিএসের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইল ফোনের আলোয় টিকিট ইস্যু, রেজিস্ট্রার সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে নিতে হয়।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "রাজবাড়ী স্টেশনে একাধিক ট্রেন ও ইঞ্জিন অবস্থান করে। লোডশেডিংয়ের সময় পুরো স্টেশন অন্ধকার হয়ে গেলে চুরি-ছিনতাই ও অপ্রীতিকর ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন প্রয়োজন।"