নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বর্তমানে নবজাতকটি সিলেটের একটি সেফ হোমে অবস্থান করছে। গত মঙ্গলবার সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর আগে মামলার অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

আজ শুক্রবার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, "আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নবজাতককে ঢাকায় না এনে সিলেটের সেফ হোম থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।"

তদন্ত কর্মকর্তার তথ্যানুযায়ী, ঢাকার সিআইডি ল্যাবের পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর এই নমুনা সংগ্রহ করেন। পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে মা বিষয়টি জানতে পারেন। গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরবর্তীতে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাব অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। ৭ মে আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই শিশুটি একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। এরপর ৯ জুলাই নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান জানান, নবজাতকের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে অভিযুক্ত ব্যক্তির নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেলেই মামলায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বর্তমানে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে আছেন। নেত্রকোনা আদালতের পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ জানান, মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আদালত আগামী ২৪ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।