হবিগঞ্জে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নেতৃত্বে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও চারটি আইফোনসহ বিভিন্ন মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনেছে ছাত্রদল। এনসিপির ১০ জন নেতার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় এই অভিযোগটি দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন।

অভিযোগপত্রে এজাহারকারী ইকবাল হোসেন রুকন বলেন, “আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী আপনার থানায় হাজির হইয়া এই মর্মে লিখিত এজাহার দায়ের করিতেছি যে, আমি হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সক্রিয় কর্মী। আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহিত দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন সংগ্রাম করে আসিতেছি। বিগত ১৭ বছর ও ২৪ সালের ৩৬ জুলাই এর আন্দোলনে মামলা, হামলা ও রক্তাক্ত হয়ে আহত হইয়াছি। পক্ষান্তরে আসামিগণ হলো জুলাই চেতনা বিক্রিকারী সক্রিয় সদস্য।

আসামি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একজন জাতীয় বেয়াদব, সে মদখোর, গাঁজা খোর, নারী লোভী, পাগল, উন্মাদ প্রকৃতির লোক হয়। আসামি সারজিস আলম বাকপটু, মিথ্যাবাদী, চালাক, পল্টিবাজ, চেতনা বিক্রিকারী, দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া ব্যক্তি। অন্যান্য আসামিগণ ফ্যাসিস্ট সরকারের রূপ পরিবর্তনকারী লোক হয়। তাহার সামাজিক নিয়ম কানুন মানে না, অন্যায় অত্যাচার তাদের পেশা এবং নেশা। পক্ষান্তরে আমি একজন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আদর্শের সৈনিক।

ঘটনার তারিখ ও সময়ে আমাদের কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনে শহীদ রিপন নীলের পরিবারের সহিত সাক্ষাৎ এবং শোকসভা ও আলোচনার অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রাক্কালে হবিগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত কোর্ট মসজিদের সামনে আমিসহ ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী একত্রিত হতে থাকি। এই সময় হবিগঞ্জ পৌরসভা কোর্ট মসজিদের সামনে মূল সড়কের উত্তর দিক হইতে আগত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, আবু রেজা মস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন গংদের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জনের ১টি দল হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, দা, রামদা, লাঠি, লোহার রড, ইটের টুকরাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বে-আইনি জনতায় মিলিত হয়ে শ্লোগান দিয়ে বলে, ‘ধর ধর ছাত্রদল ধর, ছাত্রদলকে ধরে জবাই কর’। এই ধরনের উস্কানিমূলক শ্লোগান দেওয়ার সাথে সাথে আমাদের পক্ষের ছাত্রদল কর্মীরাও পাল্টা শ্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে ঘটনার তারিখ ও সময়ে এনসিপি ও ছাত্রদল কর্মীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়ে যায়।

এরকম ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় বিচ্ছিন্নভাবে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এই সময় এনসিপি নেতা সারজিস আলম হুকুম দিয়া বলে, ‘আমাদের নিকট যে সকল অস্ত্র আছে তা দিয়ে সবাইকে শেষ করে ফেল’। এই সময় ৪নং আসামি ফকর উদ্দিন জাকি তাহার হাতে থাকা লোহার রড দিয়া খুন করার উদ্দেশ্যে জখমী সাক্ষী মাহফুজ চৌধুরীর ডান হাতের কাঁধের উপরে মারাত্মক হাড়ভাঙ্গা (রিভিউয়্যেস) জখম করে।

৯নং আসামি আবু হেনা মস্তফা কামাল তাহার হাতে থাকা ইটের টুকরা দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে সাক্ষী মোজাক্কির হোসেন ইমনের মাথা লক্ষ্য করিয়া আঘাত করিলে উক্ত আঘাত সাক্ষী মোজাক্কির হোসেন ইমনের মাথায় রক্তাত (গ্রিভিয়াস) জখম হয়। আসামি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসামি সারজিস আলম, আসামি নুর আলম চৌধুরী, রুহাম গাজী, আসামি আবু হেনা মস্তফা কামাল, আসামি ফকরুদ্দিন জাকি, আসামি আঃ হাই কালামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিগণ আমি, জখমী সাক্ষী মোজাক্কির হোসেন ইমন, মাহফুজ চৌধুরীকে তাহাদের হাতে থাকা লোহার রড, রামদা, ফিকল, ইটের টুকরা ইত্যাদি অস্ত্রাদি দিয়া খুন করার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করিয়া আমাদের শরীরে মারাত্মক রক্তাক্ত (গ্রিভিয়াস) জখম করে। এই সময় ৩নং আসামি আমার পকেটে পকেট হইতে একটি আইফোন ১৩ (যার মূল্য ৮০ হাজার টাকা) ছিনাইয়া নিয়া যায়।

৪নং আসামি ২নং সাক্ষীর প্যান্টের পকেট হইতে একটি আইফোন ১১ (যার মূল্য ৬০ হাজার টাকা) ছিনাইয়া নিয়া যায়। ৫নং আসামি ৩নং সাক্ষীর প্যান্টের পকেট হইতে একটি আইফোন ১৪ (যার মূল্য ৯০ হাজার টাকা) ছিনাইয়া নিয়া যায়। ৬নং আসামি ৪নং সাক্ষীর প্যান্টের পকেট হইতে একটি স্যামসাং এস-২২ (যার মূল্য ৮০ হাজার টাকা) ছিনাইয়া নিয়া যায়। ৭নং আসামি ৫নং সাক্ষীর প্যান্টের পকেট হইতে নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনাইয়া নিয়া যায়। ৮নং আসামি ৬নং সাক্ষীর প্যান্টের পকেট হইতে একটি আইফোন ১৫ (যার মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা) ছিনাইয়া নিয়া যায়। এই সময় আমাদের দুইপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কোনো কোনো সাক্ষীগণ ঘটনাস্থলে আসিলে আরজিতে উল্লেখিত আসামিগণসহ অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০ জন আসামিগণ আমাদিগকে মৃত্যুর ভয় দেখাইয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করিয়া চলিয়া যায়। তৎপর কোনো কোনো সাক্ষীগণকে সঙ্গে নিয়া আমি ও অন্যান্য জখমীগণ হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করাই। বিষয়টি আমি দলীয় নেতাকর্মীদের অবহিত করি। আমার সাক্ষী আছে, বিচার চাই।”

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, “৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”