হবিগঞ্জে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ জন নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় এই অভিযোগটি দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন। অভিযোগপত্রে এনসিপির ১০ জন নেতার নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নাগরিক কমিটি হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক নূর আলম চৌধুরী, ফখরউদ্দিন জাকি, লাখাই উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আতা হাই কামাল, কফিল গাজী, হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির সদস্য সচিব মাহবুবুর বারী চৌধুরী, প্রধান সমন্বয়কারী নাহিদ উদ্দিন তারেক এবং আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামালের নাম রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বাদীর দাবি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে তিনি যখন কোর্ট মসজিদের সামনে অবস্থান করছিলেন, তখন এনসিপির নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, লোহার রড ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালান। এতে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন, যাদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় কয়েকজনের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা এলাকা ত্যাগ করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ছাত্রদলের একাধিক নেতা-কর্মী এবং হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের একজন কর্তব্যরত চিকিৎসকের নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, “৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”