‘তবক দেওয়া পানের কবি’ হিসেবে পরিচিত আসাদ চৌধুরীকে কেন্দ্র করে শিল্প-সাহিত্যের কাগজ ‘জলছবি’র সর্বশেষ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে। ৩২ ফর্মার এই সংখ্যাটিতে কবির জীবনলিপি, সাহিত্যচর্চা, কবি হয়ে ওঠার নেপথ্য গল্প এবং তার মননচেতনার বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। চার বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় দেশের প্রথিতযশা লেখক এবং তরুণ প্রজন্মের লেখকদের সমৃদ্ধ লেখা দিয়ে সাজানো হয়েছে এই বিশেষ সংখ্যাটি।
শিল্পী হামিদুল ইসলামের প্রচ্ছদে প্রকাশিত এই সংখ্যাটিতে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সাহিত্যিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, কে জি মোস্তফা, মুস্তাফা জামান আব্বাসী, আল মুজাহিদী, অসীম সাহা, অনুপম হায়াৎ, সেলিনা হোসেন, আনোয়ারা সৈয়দ হক, ড. খলিলুর রহমান, হাসান হাফিজ, রেজাউদ্দিন স্টালিন, মাহমুদ কামাল, জাফরুল আহসান, বিলু কবির, মনি হায়দার, জাকির আবু জাফর, ড. তপন বাগচী ও মনসুর আজিজসহ শতাধিক লেখক। এছাড়া সংখ্যাটিতে প্রয়াত আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও আবদুল গাফ্ফর চৌধুরীর লেখা সংকলিত হয়েছে।
আসাদ চৌধুরী সম্পর্কে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী লিখেছেন, “আসাদ চৌধুরীর কবিতার জগৎটা আমাদের অপরিচিত নয়, কিন্তু সেই পরিচিতিকে যখন তিনি কবিতায় নিয়ে আসেন তখন মনে হয় ওপর থেকে একটা আবরণ সরে গেছে, চেনা জিনিসকেই নতুন করে চিনতে পারছি। সেটি প্রসন্ন এক অভিজ্ঞতা। এই প্রসন্নতা তার সকল কাজেরই বৈশিষ্ট্য।”
আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ লিখেছেন, “ওর কবিতা সহজ। ওর কবিতা সরল। সেখানে আধুনিকতা আছে। আবার দেশজ, লোকজ, এই বাংলার সমস্ত কিছু তার কবিতার মধ্যে আছে। সত্য ন্যায় ও সুন্দরের জন্য ওর মাঝে একটা আকুতি আছে।”
কে জি মোস্তফা লিখেছেন, “কিছু কিছু মানুষ আছেন যাদের দেখলে মনটা আপনা-আপনি খুশিতে ভরে যায়। চারপাশ অকস্মাৎ আমোদিত হয়ে ওঠে। আসাদ চৌধুরী তাদেরই একজন।”
মুস্তাফা জামান আব্বাসী লিখেছেন, “খুব কম সংখ্যক লোকই আছেন যাদের কথা শোনার জন্যে সভা-সমিতিতে যেতে ইচ্ছে করে, কম লোকই আছেন যাদের সম্বন্ধে দু’কথা লিখতে ইচ্ছে করে। এমন একজন আসাদ চৌধুরী, সুস্মিত, সুভাষিত নির্মল হাসির একজন কবি, একজন লেখক, একজন নাগরিক। যতদিন দেখা হয়েছে প্রতিবার বিনিময় করেছি পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, মমতা ও উচ্ছ্বাস।”
সংখ্যাটি প্রকাশের পর ‘জলছবি’র সম্পাদক ও কবি জামসেদ ওয়াজেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সামগ্রিক বাংলা সাহিত্য কবি আসাদ চৌধুরীর কাছে ঋণী। কবিতার প্রতি তার ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ আমাদের উদ্বুদ্ধ করে তাকে নিয়ে এই সংখ্যাটি করতে। নিরাহংকার এই কবি বুকে আগলে রাখতেন তার সকল অনুজ কবিকে। তার মিষ্টি ব্যবহার আর হাসিমাখা মুখের যাদুতে আমরা কুপোকাত হতাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণ করা কবিকে নিয়ে সংখ্যাটি প্রকাশ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই এই সংখ্যার অংশগ্রহণকারী সকল লেখকদের প্রতি, যারা তাদের মূল্যবান লেখা দিয়ে সংখ্যাটি ঋদ্ধ করেছেন।”
বইটি বর্তমানে শাহবাগ পাঠক সমাবেশ, আজিজ সুপার মার্কেটের কিশলয় প্রকাশনী, পলল প্রকাশনী ও জনান্তিকে পাওয়া যাচ্ছে।