আগামী মাসেও দেশে তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই অনুযায়ী ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা বহাল থাকবে।

আজ বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, যা গত ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর রয়েছে। এছাড়া কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জুন মাস থেকে কার্যকর রয়েছে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের অস্থিরতা তৈরি হলে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও জুন মাসে তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে সরকার। এরপর জুলাই ও আগস্ট মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ডিজেলের দাম সাড়ে ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল, যা ছিল দেশের ইতিহাসে একলাফে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি। তবে সমালোচনার মুখে ওই মাসেই দাম ৫ টাকা কমানো হয়। গত এপ্রিলে মূল্যবৃদ্ধির পর জ্বালানি তেল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায়। এরপর মে মাসে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও জুনে প্রতি লিটার কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়।

২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্যনির্ধারণ পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। এই প্রক্রিয়ায় আগের মাসে আমদানি করা তেলের খরচ বিবেচনা করে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হয়। মার্চের মতো এপ্রিলেও শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।

বর্তমানে নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। অন্যদিকে, উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়ে। এর ফলে দেশে তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর ২০ এপ্রিল থেকে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ানো হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।