ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. আলাউদ্দীন চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। গত সোমবার সকালে তিনি তার অসুস্থ বড় মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে দিনাজপুরে যান। একই সময়ে কিশোরীর মা-ও কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকায় ওই কিশোরী বাড়িতে একা ছিলেন।
বেলা দেড়টার দিকে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন ওই বাড়িতে যান এবং ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কিশোরীর কাছে তার বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি চান। কিশোরী ফটোকপি দেওয়ার পর তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়ে খোঁজ নেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জোরপূর্বক ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এসময় কিশোরী আত্মরক্ষার্থে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়েন এবং সুযোগ বুঝে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে চিৎকার শুরু করেন।
কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে বিকেলে দিনাজপুর থেকে বাবা বাড়ি ফিরে মেয়ের গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান এবং তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে মীমাংসা বা আলোচনার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য তা না মেনে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আলাউদ্দীনের ফোন নম্বর গতকাল মঙ্গলবার থেকে বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, "এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আলাউদ্দীনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"